ট্রাম্প-জিনপিং ফোনালাপ: টিকটক ও বাণিজ্যই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

2 Min Read

শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং টেলিফোনে আলাপ করেছেন। তাদের কথোপকথনে মূলত টিকটকের মালিকানা হস্তান্তর, বাণিজ্যিক সম্পর্ক ও শুল্কনীতি নিয়ে আলোচনা হয় বলে কূটনৈতিক সূত্রে ধারণা করা হচ্ছে।

ট্রাম্পের দায়িত্ব গ্রহণের পর এটি ছিল শি জিনপিংয়ের সঙ্গে তার দ্বিতীয় ফোনালাপ। যদিও দুই নেতার আলোচনার সবিস্তারে কিছু প্রকাশ পায়নি, তবে টিকটক ইস্যুতে চূড়ান্ত চুক্তি এবং সম্ভাব্য শীর্ষ বৈঠক আলোচনায় গুরুত্ব পেয়েছে বলে জানা গেছে।

এর আগে ট্রাম্প এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, টিকটক ও বাণিজ্য নিয়ে একটি চুক্তির খুব কাছাকাছি পৌঁছেছে দুই দেশ। চুক্তি হলে মার্কিন বিনিয়োগকারীরা টিকটকের অন্তত ৮০ শতাংশ শেয়ার কিনবেন, বাকি ২০ শতাংশ থাকবে চীনা বিনিয়োগকারীদের হাতে। ওরাকলসহ কয়েকটি মার্কিন প্রযুক্তি ও ভেঞ্চার ক্যাপিটাল কোম্পানি এতে বিনিয়োগ করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই ফোনালাপে শি জিনপিং ট্রাম্পকে চীন সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রও শি জিনপিংকে সফরের আহ্বান জানিয়ে রেখেছে। অক্টোবরের শেষ দিকে ট্রাম্প এশিয়া সফরে গেলে দুই নেতার মধ্যে আনুষ্ঠানিক বৈঠক হতে পারে।

টিকটকের মালিকানা হস্তান্তরের আলোচনার সূত্রপাত ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে হলেও দ্বিতীয় মেয়াদে এসে বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্র-চীন সম্পর্কের বড় আলোচ্য বিষয়ে পরিণত হয়েছে। কংগ্রেসে পাশ হওয়া দ্বিদলীয় আইনে বলা হয়েছিল—টিকটক যুক্তরাষ্ট্রে থাকতে চাইলে অন্তত ৮০ শতাংশ শেয়ার মার্কিন হাতে দিতে হবে।

এদিকে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য সম্পর্কও এখন আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বছরের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র ও চীন পরস্পরের ওপর শুল্কের হার বাড়িয়ে দেয়, যা বৈশ্বিক বাণিজ্যে বিরূপ প্রভাব ফেলে। তাই নতুন আলোচনায় শুল্কনীতি নিয়েও সমঝোতায় পৌঁছানোর চেষ্টা চলছে।

কূটনৈতিক মহল মনে করছে, টিকটক চুক্তি ও বাণিজ্য সমঝোতা যদি সফল হয়, তবে তা দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন মাত্রায় নিয়ে যাবে এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

 

Share This Article
Leave a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *