দেশজুড়ে বিশেষ অভিযান শিগগিরই: টার্গেটেড তালিকায় অপরাধী ও সহিংসতায় জড়িতরা

ছিদ্দিকুর রহমান

3 Min Read

দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে শিগগিরই দেশব্যাপী একটি বিশেষ অভিযান শুরু করতে যাচ্ছে সরকার। এ লক্ষ্যে অপরাধে জড়িত ব্যক্তি ও চক্রকে চিহ্নিত করে একটি সমন্বিত তালিকা প্রস্তুতের কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী এপ্রিল থেকেই মাঠপর্যায়ে এই অভিযান শুরু হতে পারে।

জানা গেছে, আসন্ন এই অভিযানে পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি ও সেনাবাহিনীর সমন্বয়ে যৌথ বাহিনী কাজ করবে। তবে অভিযানের নাম এখনো চূড়ান্ত হয়নি। জেলা পুলিশ সুপার ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর পৃথক তালিকা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়ার পর অপরাধের ধরন অনুযায়ী নাম নির্ধারণ করে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযান শুরু করা হবে।

পুলিশ

এর আগে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, সরকার ‘অপারেশন ক্লিনহার্ট’-এর আদলে একটি বড় অভিযান চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। গত ৮ মার্চ ফেনীতে এক আইনশৃঙ্খলা সভায় তিনি বলেন, অপরাধীদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না এবং যারা অন্যায় করছে, তাদের অবশ্যই আইনের আওতায় আনা হবে।

সরকারের মতে, বর্তমানে মাদক, কিশোর গ্যাং, ছিনতাই, চাঁদাবাজি ও দখলবাজিসহ বিভিন্ন অপরাধ উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে মাদক ব্যবসায়ী ও সেবনকারীদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়নে জোর দেওয়া হচ্ছে।

গ্রেফতার

সূত্র জানায়, প্রস্তুতকৃত তালিকায় সহিংসতা, নাশকতা, মাদক ব্যবসা, অনলাইন প্রতারণা এবং সংঘবদ্ধ অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় এমন কিছু ব্যক্তির নামও রয়েছে, যাদের বিরুদ্ধে অতীতে সহিংসতা বা অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির অভিযোগ রয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, এই তালিকা কোনো রাজনৈতিক প্রতিহিংসা নয়, বরং গোয়েন্দা তথ্য ও সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে প্রস্তুত করা হয়েছে। তালিকাভুক্ত কেউ যদি পুনরায় সহিংসতা বা নাশকতায় জড়ায়, তবে তাদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসা বা জামিনে মুক্ত ব্যক্তিদের অযথা হয়রানি করা হবে না বলেও জানানো হয়েছে।

পুলিশ

পুলিশ সদর দপ্তরের একটি সূত্র জানায়, সাম্প্রতিক সময়ের বিভিন্ন অপরাধের তথ্য বিশ্লেষণ করে তালিকাটি প্রস্তুত করা হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও এটি নিয়মিত হালনাগাদ করা হবে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরকার এবার ‘ঢালাও গ্রেপ্তার’ নীতি থেকে সরে এসে ‘টার্গেটেড অ্যাকশন’-এ জোর দিচ্ছে। অর্থাৎ নির্দিষ্ট তথ্য ও অভিযোগের ভিত্তিতেই অভিযান পরিচালিত হবে। কেউ আন্দোলনের আড়ালে সহিংসতা বা নাশকতার চেষ্টা করলে তাৎক্ষণিকভাবে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সবমিলিয়ে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে সরকারের এই উদ্যোগকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

Share This Article
Leave a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *