পঞ্চগড়ে শহীদ ওসমান হাদীর হত্যাকারীদের বিচারসহ চার দফা দাবিতে সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালনকালে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সেনাবাহিনীর ধস্তাধস্তি ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, মহাসড়ক থেকে সরিয়ে দিতে গিয়ে সেনাসদস্যরা লাঠিচার্জ করলে অন্তত ২৩ জন শিক্ষার্থী আহত হন।
রোববার (১১ জানুয়ারি) দুপুর ২টার দিকে ‘বাংলাদেশপন্থী শিক্ষার্থী’দের ব্যানারে পঞ্চগড় মকবুলার রহমান সরকারি কলেজ চত্বর থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে কেন্দ্রীয় চৌরঙ্গী মোড়ে পৌঁছে মহাসড়ক অবরোধ করে। এতে সড়কের দুই পাশে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে এবং চরম ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ যাত্রীরা।
আন্দোলনকারীরা জানান, শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি চলাকালে বিকেল ৪টার দিকে সমাপনী বক্তব্যের সময় সেনাসদস্যরা তাদের মহাসড়ক থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় উত্তেজনা সৃষ্টি হলে ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে লাঠিচার্জের ঘটনা ঘটে।
আহতদের মধ্যে আন্দোলনের সমন্বয়ক ফজলে রাব্বী, মোকাদ্দেসুর রহমান সান, আতিকুর রহমান, মজাহারুল ইসলাম সেলিম, খোরশেদ মাহমুদ ও মাহফুজুর রহমানসহ অন্তত ২৩ জনকে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. ইদ্রাশিশ সান্যাল অঙ্কুর জানান, ২৩ থেকে ২৫ জন আহত শিক্ষার্থী চিকিৎসা নিতে এসেছেন। তাদের অধিকাংশের শরীরে আঘাতজনিত ক্ষত রয়েছে।
আন্দোলনের সমন্বয়ক ফজলে রাব্বী অভিযোগ করে বলেন,
আমরা শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি শেষ করছিলাম। হঠাৎ করেই সেনাবাহিনী আমাদের ওপর লাঠিচার্জ করে। এটি সম্পূর্ণ অযৌক্তিক ও নিন্দনীয়।
এদিকে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে পঞ্চগড় সেনা ক্যাম্পের কমান্ডার মেজর আদনান মোর্শেদ আল হক ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। তিনি গণমাধ্যমকে বলেন,
দীর্ঘ সময় মহাসড়ক অবরোধ থাকায় জনদুর্ভোগ কমাতে শিক্ষার্থীদের সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছিল। এ সময় ধস্তাধস্তি হয়। পরিকল্পিতভাবে লাঠিচার্জ করা হয়নি।
মেজর আদনানের হস্তক্ষেপে পরে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। বর্তমানে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
