গোয়ালন্দে পুলিশের ওপর হামলা : ৬ জন কারাগারে, তদন্তে নতুন দিক

আবিদা সুলতানা, ডেস্ক রিপোর্ট

2 Min Read

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে পুলিশের ওপর হামলা ও গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া সাতজনের মধ্যে ছয়জনকে আদালত কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। রোববার (৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে গোয়ালন্দ আমলী আদালতের বিচারক তানজিম আহম্মেদ এ আদেশ দেন।

গোয়ালন্দ ঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রাকিবুল ইসলাম জানান, মামলার পর থেকেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অভিযান চালাচ্ছে। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার সাতজনের মধ্যে কাজী অপু নামে একজন আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। বাকি ছয়জনকে আদালত জামিন না মঞ্জুর করে জেলহাজতে পাঠান। আরেক আসামি জীবন সরদারকে সোমবার আদালতে তোলা হবে।

আসামিপক্ষের আইনজীবী ইমদাদুল হক বিশ্বাস বলেন, আসামিদের জামিন চাওয়া হলেও আদালত তা নাকচ করেন। তবে তিনি প্রশাসনের কাছে অনুরোধ জানিয়েছেন, মামলায় অজ্ঞাত আসামির নামে কাউকে যেন হয়রানি করা না হয়।

কারাগারে পাঠানো ছয়জন আসামি হলেন—শাফিন সরদার (১৯), এনামুল হক জনি (৩২), ছাত্রলীগ নেতা মো. মাসুদ মৃধা (২৯), স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা হিরু মৃধা (৪০), কাজী অপু (২৫) এবং হায়াত আলী মৃধা (২৯)।

রাজবাড়ীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. শরীফ আল রাজীব বলেন, ঘটনাস্থলের ফুটেজ বিশ্লেষণ করে ডিবি ও থানা পুলিশের যৌথ অভিযানে ৫ জনকে শনিবার রাতে এবং আরও ২ জনকে রবিবার গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে এখনও মূল ঘটনায় জড়িত অন্যদের ধরতে অভিযান চলছে।

উল্লেখ্য, শুক্রবার দিবাগত রাতে গোয়ালন্দ ঘাট থানার এসআই মো. সেলিম মোল্লা বাদী হয়ে পুলিশের ওপর হামলা, সরকারি কাজে বাধা ও সম্পত্তি ভাঙচুরের অভিযোগে ৩ হাজার থেকে সাড়ে ৩ হাজার অজ্ঞাত ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।

তবে একই রাতে নুরাল পাগলের মাজার ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও নিহতের ঘটনায় কোনো মামলা হয়নি। পুলিশ জানিয়েছে, এ বিষয়ে অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সাম্প্রতিক এই ঘটনায় গোয়ালন্দের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলে উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয়রা বলছেন, মামলায় বিপুল সংখ্যক অজ্ঞাত আসামির অন্তর্ভুক্তি ভবিষ্যতে রাজনৈতিক হয়রানির আশঙ্কা তৈরি করতে পারে।

Share This Article
Leave a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *