রাজধানীর স্কুলে শিশু শিক্ষার্থীকে নির্যাতন, ব্যবস্থাপক কারাগারে

ফরহাদ হোসেন, ঢাকা প্রতিনিধি

2 Min Read

রাজধানীর নয়াপল্টনের একটি বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্লে-গ্রুপের এক শিশু শিক্ষার্থীকে নির্যাতনের ঘটনায় গ্রেফতার স্কুল ব্যবস্থাপক পবিত্র কুমার বড়ুয়াকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।

শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাঈদ এ আদেশ দেন।

তদন্ত কর্মকর্তা পল্টন মডেল থানার উপ-পরিদর্শক মো. নূর ইসলাম রিমান্ড আবেদন করলেও আদালতে উপস্থিত না থাকায় আদালত পবিত্র কুমারকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে রিমান্ড বিষয়ে শুনানির দিন হিসেবে আগামী ২৭ জানুয়ারি নির্ধারণ করা হয়।

ঢাকা মহানগর পুলিশের সহকারী পুলিশ কমিশনার (মতিঝিল জোন) হুসাইন মুহাম্মদ ফারাবী জানান, ভোরে মিরপুর এলাকার একটি বাসা থেকে পবিত্র কুমারকে গ্রেফতার করা হয়। তবে মামলার প্রধান আসামি ও ওই স্কুলের প্রিন্সিপাল শারমিন জাহান এখনও পলাতক রয়েছেন।

রাজধানীর নয়াপল্টনের মসজিদ রোডে অবস্থিত ‘শারমিন একাডেমি’ নামের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে চার বছর বয়সী এক শিশুকে নির্যাতনের অভিযোগ ওঠে। শিশুটিকে নির্যাতনের একটি সিসিটিভি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) শিশুটির মা বাদী হয়ে পল্টন থানায় মামলা দায়ের করেন।

ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যায়, এক নারী শিশুটিকে একটি কক্ষে নিয়ে গিয়ে গালে চড় মারছেন এবং সোফায় বসিয়ে একাধিকবার আঘাত করছেন। পরে এক পুরুষকে শিশুটির সামনে স্ট্যাপলার দিয়ে ভয় দেখাতে ও ধমক দিতে দেখা যায়। এক পর্যায়ে শিশুটির গলা চেপে ধরার দৃশ্যও ভিডিওতে উঠে আসে।

ভিডিওতে থাকা নারী শারমিন একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান শিক্ষক শারমিন জাহান এবং পুরুষটি স্কুলের ব্যবস্থাপক পবিত্র কুমার বড়ুয়া বলে শনাক্ত করা হয়েছে।

নির্যাতনের ঘটনায় শিশুটির পরিবার মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। শিশুটির মা জানান, তার সন্তান মানসিক আঘাতে ভুগছে এবং শারীরিক অবস্থাও ভালো নয়। বর্তমানে শিশুটি তার নানির কাছে রয়েছে।

শিশুটির বাবা বলেন, স্কুলে প্রি-প্লে শ্রেণিতে ভর্তি হওয়ার মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যেই তার সন্তান এমন অমানবিক নির্যাতনের শিকার হয়েছে।

Share This Article
Leave a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *