নারায়ণগঞ্জের আলোচিত সাত খুন মামলার মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত তিন সাবেক র্যাব কর্মকর্তাকে কারাগারে বসেই জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। তদন্তের স্বার্থে এ অনুমতি পেল ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম।
জানা গেছে, জিজ্ঞাসাবাদের তালিকায় আছেন র্যাবের সাবেক কর্মকর্তা তারেক সাঈদ, মেজর (চাকরিচ্যুত) আরিফ হোসেন এবং লেফটেন্যান্ট কমান্ডার (চাকরিচ্যুত) এম এম রানা। এর বাইরে গুমের মামলার অন্যতম আসামি হিসেবে উঠে এসেছে সাবেক সেনাকর্মকর্তা জিয়াউল আহসানের নামও।
এদিন ট্রাইব্যুনাল আরও এক ঐতিহাসিক নির্দেশনা দিয়েছে। জুলাই-আগস্টের গণহত্যার একটি মামলার বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত। একইসঙ্গে চাঁনখারপুলে ছয়জনকে হত্যা মামলায় সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান হাবিবসহ আটজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেছেন ট্রাইব্যুনাল। এই মামলার সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য হয়েছে ৭ আগস্ট।
২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জের লিংক রোড থেকে অপহৃত হন তৎকালীন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলামসহ পাঁচজন। অপহরণের ঘটনা দেখে ফেলায় অপহৃত হন আইনজীবী চন্দন সরকার এবং তাঁর গাড়িচালক মো. ইব্রাহিম। তিন দিন পর শীতলক্ষ্যা নদীতে ভেসে ওঠে ছয়জনের মরদেহ। পরদিন উদ্ধার হয় আরেকজনের মরদেহ। নিহতদের মধ্যে ছিলেন নজরুলের বন্ধু মনিরুজ্জামান স্বপন, তাজুল ইসলাম, লিটন ও গাড়িচালক জাহাঙ্গীর আলম।
এ ঘটনায় দায়ের হওয়া দুটি মামলায় ২০১৬ সালের ১৬ জানুয়ারি নারায়ণগঞ্জের আদালত ২৬ জনকে মৃত্যুদণ্ড এবং নয়জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেন। এরপর হাইকোর্টে আপিলে ১৫ জনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন আদালত, বাকি ১১ জনের সাজা পরিবর্তন করে দেন যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে। এছাড়া বিভিন্ন মেয়াদের কারাদণ্ড পাওয়া নয়জনের সাজাও বহাল থাকে।
দণ্ডিতরা হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করলেও সেই আপিল এখনও নিষ্পত্তি হয়নি। মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকা আসামিদের মধ্যে রয়েছেন তারেক সাঈদ, আরিফ হোসেন, এম এম রানা এবং আওয়ামী লীগের বহিষ্কৃত নেতা ও সাবেক কাউন্সিলর নূর হোসেন।
কারা সূত্র জানায়, কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারের কনডেমড সেলে আছেন তারেক সাঈদ। এম এম রানা আছেন কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার–২–এ। আর আরিফ হোসেন রয়েছেন কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগার–৪–এ।
নতুন করে তাদের জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি মেলায় গুম মামলার তদন্তে নতুন মোড়ের আভাস দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। তদন্ত সংস্থা মনে করছে, এই জিজ্ঞাসাবাদ থেকে গুমের নেপথ্যের আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মিলতে পারে।
