বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করেছেন, জামায়াতে ইসলামীর জনপ্রিয়তা ও ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে বিএনপি বঙ্গভবন ও ভারতের সঙ্গে সমন্বয় করে পরিকল্পিতভাবে সাইবার হামলা চালাচ্ছে। তিনি একে ‘প্যাকেজ প্রোগ্রাম’ আখ্যা দেন।
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ উপজেলার শিমরাইল ট্রাকস্ট্যান্ড মাঠে জেলা ও মহানগর জামায়াত আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
পরওয়ার বলেন, জামায়াতের নেতৃত্ব, সংগঠনের মর্যাদা ও ইমেজ নষ্ট করার জন্য বিএনপি সাইবার আক্রমণের পথ বেছে নিয়েছে। জামায়াত আমিরের বক্তব্য বিকৃত করে প্রযুক্তির মাধ্যমে মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। তিনি দাবি করেন, জীবনে কখনো বলেননি—এমন বক্তব্যও সাইবার হামলার মাধ্যমে ছড়ানো হচ্ছে।
বিএনপির ঘোষিত ‘ভিসা কার্ড’ ও ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচিকে ‘ভুয়া’ উল্লেখ করে জামায়াতের এই নেতা বলেন, ভুয়া বলারও একটি সীমা থাকা উচিত। দেশে মানুষের সংখ্যা ১৮ কোটি, অথচ তারা ৫০ কোটি কার্ড দেওয়ার কথা বলছে। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, এর আগেও বিএনপি ক্ষমতায় আসার আগে বেকার ভাতা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিল, যার কোনো বাস্তব ফলাফল মানুষ দেখেনি।
পরওয়ার বলেন, বিএনপির এসব আশ্বাস শেখ হাসিনার ‘১০ টাকা সের চাল’ দেওয়ার ঘোষণার মতোই অবাস্তব। এসব দিয়ে জনগণকে আর বিভ্রান্ত করা যাবে না।
দেশকে দুর্নীতিমুক্ত করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন, নতুন বাংলাদেশ গড়ার সংগ্রাম মানেই দুর্নীতির বিরুদ্ধে সংগ্রাম। রাষ্ট্রের প্রতিটি সেক্টরে যে দুর্নীতি ও জঞ্জাল জমে আছে, তা সম্পূর্ণভাবে পরিষ্কার করা হবে। দেশের অর্থনীতি ও প্রশাসন দুর্নীতিমুক্ত করাই হবে জামায়াতের প্রথম অগ্রাধিকার।
তিনি আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সারা দেশে জামায়াতের প্রার্থী ও দলটির সমর্থিত ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীদের বিজয়ী করতে সকলের প্রতি আহ্বান জানান।
নির্বাচনী জনসভায় সভাপতিত্ব করেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও নারায়ণগঞ্জ মহানগর শাখার আমির মাওলানা মুহাম্মদ আব্দুল জব্বার। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা মঈন উদ্দিন আহমদসহ জেলার পাঁচটি আসনে জামায়াতের একক প্রার্থী ও ১১ দলীয় জোটের সমর্থিত প্রার্থীরা।
