ভোটার তালিকা হালনাগাদে সারা দেশে ২১ লাখ মৃত ভোটারকে চিহ্নিত করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। উদ্বেগজনকভাবে, তাদের অনেকেই পূর্ববর্তী নির্বাচনে ভোট দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন।
সোমবার (৬ অক্টোবর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে ইসি ভবনে গণমাধ্যমের সঙ্গে এক সংলাপে তিনি বলেন,
সুষ্ঠু, সুন্দর ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজন আমাদের দায়িত্ব এবং প্রতিশ্রুতি। এটি কেবল কথার কথা নয়— আমরা চাই জনগণ যেন বিশ্বাস করে যে নির্বাচন হবে আয়নার মতো স্বচ্ছ।
সিইসি আরও জানান, মৃত ভোটারদের তথ্য যাচাই করে ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হবে। পাশাপাশি প্রবাসী ও সরকারি চাকরিজীবীদের ভোটের সুযোগ নিশ্চিত করার পরিকল্পনাও রয়েছে।
প্রায় ১০ লাখ সরকারি চাকরিজীবী এবার ভোট দিতে পারবেন। একই সঙ্গে প্রবাসী ভোটারদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করা হবে,
বলেন তিনি।
গণমাধ্যমের ভূমিকাকে নির্বাচন কমিশনের “সহযোগী অংশীদার” হিসেবে উল্লেখ করে নাসির উদ্দিন বলেন,
ভুয়া তথ্য ও এআই-ভিত্তিক বিভ্রান্তি রোধে ইলেকট্রনিক মিডিয়াকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। গণমাধ্যমের সহযোগিতা ছাড়া নির্বাচনী মাঠে সমতা তৈরি সম্ভব নয়।
ইসি প্রধান জানান, সংলাপের এই প্রক্রিয়ায় সাংবাদিক, নারী নেত্রী, রাজনৈতিক দল, মুক্তিযোদ্ধা ও নির্বাচন বিশেষজ্ঞদের মতামত নেওয়া হবে এবং সেইসব পরামর্শ বাস্তবায়ন করা হবে।
ইতোমধ্যে ইসি ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে ধারাবাহিকভাবে সংলাপ শুরু করেছে। প্রথম দিন সুশীল সমাজ ও শিক্ষাবিদদের সঙ্গে আলোচনা হয়, যদিও তাদের একটি বড় অংশ অনুপস্থিত ছিলেন।
সিইসি নাসির উদ্দিনের ভাষ্য জনগণের আস্থা ফেরাতে এবার এমন নির্বাচন আয়োজন করা হবে, যা হবে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ, অংশগ্রহণমূলক এবং নির্ভেজাল—একটি সত্যিকার অর্থে আয়নার মতো স্বচ্ছ নির্বাচন।
