ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ভোটের আগে ও পরে টানা সাত দিন সারাদেশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
বুধবার (৭ জানুয়ারি) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক-৬ শাখা থেকে জারি করা পরিপত্রে জানানো হয়, নির্বাচন ঘিরে ‘ভোটকেন্দ্রিক মোতায়েন’ কার্যক্রম চলবে আগামী ৮ থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত।
এই সময় যাতায়াতসহ মোট সাত দিন সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনী, বিজিবি, কোস্ট গার্ড, র্যাব, পুলিশ এবং আনসার ব্যাটালিয়ন মোবাইল ও স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে মাঠে থাকবে। নির্বাচনী এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলাই হবে তাদের মূল দায়িত্ব।
কোথায় কী দায়িত্ব
নির্দেশনা অনুযায়ী, সশস্ত্র বাহিনী জেলা, উপজেলা ও মেট্রোপলিটন এলাকার সুবিধাজনক নোডাল পয়েন্টে অবস্থান নিয়ে টহল ও আভিযানিক কার্যক্রম পরিচালনা করবে এবং বেসামরিক প্রশাসনকে সরাসরি সহায়তা দেবে।
বিজিবি ও র্যাব পরিস্থিতি বিবেচনায় দ্রুত প্রতিক্রিয়াশীল স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে কাজ করবে। প্রয়োজনে হেলিকপ্টার, ড্রোন ও ডগ স্কোয়াড ব্যবহারের সুযোগ রাখা হয়েছে।
ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তায় সাধারণ ও ঝুঁকিপূর্ণ প্রতিটি কেন্দ্রে পুলিশ ও আনসারের সমন্বয়ে আলাদা দল থাকবে। মেট্রোপলিটন এলাকার বাইরে গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে ৩ জন এবং মেট্রোপলিটন এলাকায় ৪ জন সশস্ত্র পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন।
গ্রাম পুলিশ ও দফাদাররা ভোটকেন্দ্রে সাত দিনের জন্য নিয়োজিত থাকবেন। পাশাপাশি প্রান্তিক ভিডিপি সদস্যদের প্রশিক্ষণসহ মোট আট দিনের দায়িত্ব দেওয়া হবে।
কড়াকড়ি নিরাপত্তা ও নিষেধাজ্ঞা
ভোটগ্রহণের আগে ও পরে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার এবং সন্ত্রাসী দমনে যৌথ বাহিনী বিশেষ অভিযান চালাবে।
এ ছাড়া নিরাপত্তার স্বার্থে—
১০ ফেব্রুয়ারি মধ্যরাত থেকে ১৩ ফেব্রুয়ারি মধ্যরাত পর্যন্ত মোটরসাইকেল চলাচল বন্ধ থাকবে
১১ ফেব্রুয়ারি মধ্যরাত থেকে ১২ ফেব্রুয়ারি মধ্যরাত পর্যন্ত ট্যাক্সিক্যাব, মাইক্রোবাস ও ট্রাক চলাচলে নিষেধাজ্ঞা থাকবে
১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত লাইসেন্সধারী কারও অস্ত্র বহন ও প্রদর্শন নিষিদ্ধ থাকবে
পরিপত্রে আরও বলা হয়েছে, নির্বাচন কমিশন সচিবালয় ও রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কার্যালয়ে সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য ১০ থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বিশেষ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি মনিটরিং সেল সক্রিয় থাকবে।
