চট্টগ্রাম-৭ (রাউজান) আসনে টানটান রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে আবারও সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (৫ নভেম্বর) রাত ১২টার দিকে উপজেলার বাগোয়ান ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের চৌধুরীপাড়ায় বিএনপির পাঁচ নেতাকর্মী গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।
গুলিবিদ্ধরা হলেন—আব্দুল্লাহ সুমন (৩৫), ইসমাইল হোসেন (৩২), খোরশেদ আলম (৩০), রুবেল মিয়া (২৮) ও সোহেল আহমেদ (৩৪)। এদের মধ্যে উপজেলা শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ সুমনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন। আহতদের সবাইকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাতের বেলায় মোটরসাইকেল ও একটি গাড়িতে করে এসে সশস্ত্র দুর্বৃত্তরা এলোপাতাড়ি গুলি চালিয়ে পালিয়ে যায়। এতে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
রাউজান উপজেলা বিএনপি সভাপতি জসীম উদ্দিন চৌধুরী জানান, “৭ নভেম্বর ঐতিহাসিক বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালনের প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা শেষে পাঁচ নেতাকর্মী বাড়ি ফিরছিলেন। পথে বাগোয়ান কুইয়াপাড়া চৌধুরীপাড়া এলাকায় ৯–১০ জন সশস্ত্র ব্যক্তি তাদের লক্ষ্য করে গুলি চালায়। এতে সবাই আহত হন। রক্তাক্ত অবস্থায় আহতদের হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।”
চমেক হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গুলিবিদ্ধদের মধ্যে সুমনের বুকে গুলি লেগেছে, তার অবস্থা সংকটাপন্ন। বাকিদের পায়ে ও হাতে গুলি লেগেছে।
রাউজান–রাঙ্গুনিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মো. বেলায়েত হোসেন বলেন, “ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে পাঁচজন গুলিবিদ্ধের খবর পাওয়া গেছে। ঘটনার কারণ অনুসন্ধান চলছে।”
এর আগে একইদিন সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম-৮ আসনে বিএনপির প্রার্থী এরশাদ উল্লাহ গণসংযোগকালে গুলিবিদ্ধ হন। তার সঙ্গে থাকা কর্মী সরোয়ার বাবলা গুলিতে নিহত হন।
উল্লেখ্য, গত ২৫ অক্টোবর রাউজান পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডে প্রতিপক্ষের গুলিতে যুবদল নেতা মো. আলমগীর আলম (৫০) নিহত হন। তিনি রাউজান পৌর যুবদলের সহ-সভাপতি ছিলেন। এ ঘটনায় তার সহযোগী রিয়াজ (৩০) ও আকিব (২৮) গুলিবিদ্ধ হয়েছিলেন।
