দীর্ঘ দুই যুগের আইনি লড়াইয়ের অবসান ঘটল সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপি নেতা এম এ এইচ সেলিমের ক্ষেত্রে। জননিরাপত্তা আইনের আওতায় দায়ের হওয়া ২০০১ সালের একটি মামলায় ২৪ বছর পর আদালত তাকে ও আরও ১২ জনকে অব্যাহতি দিয়েছেন।
মঙ্গলবার দুপুরে বাগেরহাট অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতে হাজির হয়ে অব্যাহতির আবেদন করেন এম এ এইচ সেলিম। বিচারক আব্দুর সবুর পূর্ণাঙ্গ শুনানি শেষে মামলার দায় থেকে সেলিমসহ ১৩ জনকে মুক্তি দেন।
২০০১ সালে বাগেরহাট শহরের রেলরোড এলাকায় আওয়ামী লীগ অফিস ভাঙচুরের ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে এম এ এইচ সেলিমসহ ৩০–৩৫ জনকে আসামি করে জননিরাপত্তা আইনে মামলা দায়ের করেছিল। পরে তদন্ত শেষে ১৩ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করা হয়। দীর্ঘদিন মামলাটি স্থগিত থাকলেও অবশেষে পূর্ণাঙ্গ শুনানি শেষে আদালত রায় ঘোষণা করে।
আইনজীবী শহিদুল ইসলাম বলেন,
এই মামলা দীর্ঘদিন ঝুলে ছিল। অবশেষে আদালত ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করেছেন। আসামিপক্ষের জন্য এটি একটি বড় স্বস্তি।
এম এ এইচ সেলিম নিজেও প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন,
ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল, এমনকি আয়না ঘরে নেওয়ার হুমকি দেয়া হয়েছিল। সেসব চাপে পড়ে জেলা বিএনপির সভাপতির পদ থেকেও পদত্যাগ করি। তবে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে আদালত আজ আমাকে ন্যায় বিচার দিয়েছেন। দল মনোনয়ন দিলে আমি আবারও নির্বাচনে অংশ নেব।
এম এ এইচ সেলিম ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বাগেরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য ছিলেন। তিনি ১৯৯৮ সাল থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত জেলা বিএনপির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।
দীর্ঘ সময় ধরে মামলার তলায় থাকা এই নেতার অব্যাহতি ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে বলে রাজনৈতিক মহল মনে করছে।
