স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়ন নিশ্চিতকরণসহ পাঁচটি মূল দাবির পক্ষে ব্যাপক জনমত গঠনের লক্ষ্যে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস আজ একটি নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। সংগঠনের শীর্ষ নেতৃত্ব জানিয়েছেন, কর্মসূচিটি ১ অক্টোবর থেকে ১২ অক্টোবর পর্যন্ত তিন ধাপে অনুষ্ঠিত হবে এবং গণজমায়েত, গোলটেবিল আলোচনা ও জেলা পর্যায়ে স্মারকলিপি পেশসহ নানা কর্মসূচি অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
সংগঠনের আমীর মাওলানা মুহাম্মাদ মামুনুল হক ও মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদের যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বর্তমান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকটের পেছনে জুলাই সনদের বাস্তবায়নে অনিশ্চয়তা এবং বিদেশি স্বার্থান্বেষী নীতিকেই দায়ী করা হচ্ছে। বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ প্রধানভাবে পাঁচ দফা দাবি উত্থাপন করেছেন — (১) জুলাই সনদের অবিলম্বে পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন, (২) জাতীয় পার্টি ও ১৪ দলের রাজনীতি নিষিদ্ধকরণ, (৩) আগামী নির্বাচনে প্রকৃত লেভেল–প্লেইং ফিল্ড নিশ্চিতকরণ, (৪) জুলাই গণহত্যার বিচার দৃশ্যমান করা, এবং (৫) জাতীয় সংসদের উচ্চকক্ষে পিআর পদ্ধতি বাস্তবায়ন।
ঘোষিত কর্মসূচির প্রধান ধারা:
- ১ অক্টোবর–৯ অক্টোবর: সারাদেশে গণসংযোগ কর্মসূচি — আইনি ভিত্তি ও ৫ দফার পক্ষে মতবিনিময় সভা, গোলটেবিল, সেমিনার ও রোডশো।
- ১০ অক্টোবর: রাজধানী ঢাকায় গণমিছিল।
- ১২ অক্টোবর: সারাদেশে জেলা প্রশাসকের নিকট স্মারকলিপি পেশ।
বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ সরকারের প্রতি স্পষ্ট হুঁশিয়ারি জারি করেছেন — জনগণের ন্যায্য দাবি উপেক্ষা করলে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। তারা দাবি করেছেন যে, এসব দাবি কেবল তাদের সংগঠনের নয়, বরং “দল-মত-ধর্ম নির্বিশেষে” অধিকাংশ মানুষের মৌলিক আকাঙ্ক্ষা এবং জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে জড়িত।
অপরদিকে, নিরাপত্তা, আইনের শাসন ও সাধারণ মানুষের চলাচলের ওপর এই ধরনের আন্দোলনের সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে সংশয়ও প্রকাশ করেছেন কয়েকজন বিশ্লেষক ও স্থানীয় প্রশাসনিক নেতারা। তারা মনে করেন—যদি কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে পরিচালিত করা না যায়, তবে তা রাজনৈতিক উত্তেজনা ও সামাজিক অস্থিরতা বাড়াতে পারে। জেলা পর্যায়ে স্মারকলিপি পেশ ও গণসংযোগের ধারা কিভাবে বাস্তবে গড়ে ওঠে এবং কর্তৃপক্ষ কীভাবে সেটি নিয়ন্ত্রণ করবে, সেটিই আগামী দিনের মূল পরীক্ষাগ্রস্থ বিষয় বলেই দেখা হচ্ছে।
সংগঠনের আহ্বান—সর্বস্তরের নেতা-কর্মী ও দেশবাসীকে অংশগ্রহণের জন্য—স্থানীয় নেতৃত্ব ইতিমধ্যেই প্রস্তুতি শুরু করেছে বলে দলের কয়েকটি শাখা সূত্রে জানা গেছে। কর্মসূচির নির্দিষ্ট রূপরেখা ও অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য এখনও সংগঠন পরিষ্কার করেনি; তাদের মতে কর্মসূচিটি শান্তিপূর্ণ ও সংহতভাবে বাস্তবায়িত হবে।
