জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, তার দল ক্ষমতায় এলে অপরাধের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতি কিংবা প্রধানমন্ত্রী—কেউই ছাড় পাবে না। তিনি বলেন, আইনের দৃষ্টিতে সবাই সমান এবং বিচার ব্যবস্থায় কোনো বৈষম্য থাকবে না।
শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) সকালে বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জের আরসি কলেজ মাঠ প্রাঙ্গণে আয়োজিত জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন,
শত নির্যাতনের পরও দেশের সব দুর্যোগকালে সরকারের আগেই মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে জামায়াতে ইসলামী। অথচ ৫ আগস্টের পর একটি দল মানুষকে মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে খাজনা বাণিজ্য করছে।
তিনি দাবি করেন, সারাদেশে জামায়াতে ইসলামী মাত্র আটটি মামলা করেছে এবং সেগুলোও উপযুক্ত প্রমাণের ভিত্তিতে।
তিনি আরও বলেন,
আমাদের দলের কোনো ব্যক্তি কোথাও চাঁদাবাজিতে জড়িত নয়। ৫ আগস্টের পর টানা ১৫ দিন আমরা মানুষের পাহারাদার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি। ক্ষমতায় গেলে বিচারে কোনো বৈষম্য থাকবে না। অপরাধ করলে রাষ্ট্রপতি বা প্রধানমন্ত্রী কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। দুর্নীতির ঘাড় ধরে টান দেওয়া হবে।
দেশ থেকে অর্থ পাচারের প্রসঙ্গ তুলে জামায়াত আমির বলেন,
একটি পতিত দল টাকা পাচার করে দেশকে বিপর্যস্ত করেছে। আজ দেশের ব্যাংকগুলো অস্তিত্ব সংকটে কাঁপছে। পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফিরিয়ে এনে দোষীদের অবশ্যই বিচারের মুখোমুখি করা হবে।
ইনসাফের ব্যাখ্যা দিয়ে তিনি বলেন,
ইনসাফ মানে যার যে পাওনা, তাকে তা বুঝিয়ে দেওয়া। ভোলা একটি দ্বীপ জেলা হলেও বাংলাদেশেরই অংশ। জামায়াত ক্ষমতায় গেলে ভোলাকে তার ন্যায্য প্রাপ্য বুঝিয়ে দেওয়া হবে।
প্রচারণায় নামা নারীদের নিয়ে উচ্ছৃঙ্খল মন্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, কিছু মানুষ তার ওপর অপবাদ চাপানোর চেষ্টা করেছে। তিনি বলেন-
তারা আমার দিকে মিসাইল ছুড়েছে, কিন্তু তা এখন তাদের কপালেই পড়েছে। আমি যে অপরাধ করিনি, সেই অপরাধের দায় দিলে এ দেশের মানুষ তা মেনে নেবে না
তিনি আরও বলেন,
যারা নিজেদের দল সামলাতে পারে না, তারা দেশ কীভাবে সামলাবে? দেশের মানুষ নতুন বন্দোবস্ত দেখতে চায়। নতুন বাংলাদেশ হবে ন্যায্যতার বাংলাদেশ। ইনশাআল্লাহ ১৩ তারিখ আমরা সেই বাংলাদেশ পাবো।
জামায়াতে ইসলামীর মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা আমিরের সভাপতিত্বে জনসভায় আরও উপস্থিত ছিলেন সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট মুয়াযযম হোসাইন হেলাল, বরিশাল অঞ্চল টিম সদস্য একেএম ফখরুদ্দিন খান রাজী, বরিশাল মহানগর আমির অধ্যক্ষ জহির উদ্দিন বাবর, জেলা আমির ও বরিশাল-৪ আসনের প্রার্থী অধ্যাপক আব্দুল জব্বারসহ জামায়াত ও মিত্র দলগুলোর বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।
