জাতীয় প্রতীকের মর্যাদা রক্ষায় শাপলাকে কোনো রাজনৈতিক দলের ভোটের প্রতীক হিসেবে অনুমোদন না দেওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রতীকের তালিকা সম্প্রসারণের উদ্যোগের মধ্যেই এ সিদ্ধান্ত এলো।
নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমান মাছউদিন বুধবার জানান, “নতুন প্রস্তাবিত প্রতীক তালিকায় শাপলা রাখা হচ্ছে না। নির্বাচনি প্রতীক হিসেবে আমাদের সিডিউলভুক্ত হচ্ছে না। আমরা নীতিগতভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”
নাগরিক ঐক্য ইতিমধ্যেই দলীয় প্রতীক ‘কেটলি’-এর পরিবর্তে শাপলা চাইছে। একই সঙ্গে সদ্য আত্মপ্রকাশ করা জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) নিবন্ধনের সময় দলীয় প্রতীক হিসেবে শাপলা দাবি করে আবেদন জমা দিয়েছে।
দুই দলই যুক্তি দিয়েছে, শাপলা বাংলাদেশের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও জাতীয় পরিচয়ের অংশ। কিন্তু ইসি বলছে, জাতীয় প্রতীকের মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রাখাই তাদের প্রধান বিবেচনা।
নির্বাচন কমিশনার মাছউদ বলেন, “সংবিধানে জাতীয় প্রতীক ও জাতীয় পতাকার কথা বলা হয়েছে। এ দুটোর মর্যাদা অক্ষুন্ন রাখার জন্য আইন করা হয়েছে; একটা বিধিমালা করা হয়েছে। কোনো ব্যাপারে জাতীয় ফুল, জাতীয় পাখির ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট নেই। তবে আমরা মনে করি, জাতীয় প্রতীকের ব্যবহার রাজনৈতিকভাবে বিতর্কিত হওয়া উচিত নয়।”
আগামী জাতীয় নির্বাচনে দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের জন্য অন্তত ১১৫টি প্রতীক রাখার পরিকল্পনা করছে ইসি, যা আগের ৬৯টি থেকে অনেক বেশি। শিগগিরই নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালার তফসিল সংশোধন করে আইন মন্ত্রণালয়ে ভেটিংয়ের জন্য প্রস্তাব পাঠানোর কথা রয়েছে।
নির্বাচন কমিশন মনে করছে, শাপলা জাতীয় প্রতীক হিসেবে রাজনৈতিক প্রতীকে পরিণত হলে তা ভবিষ্যতে বিভ্রান্তি ও বিতর্কের জন্ম দিতে পারে। কারণ জাতীয় প্রতীকের ব্যবহার সকলের জন্য সমভাবে প্রযোজ্য।
নির্বাচনি রাজনীতিতে প্রতীকের গুরুত্ব অনেক। প্রতীক ভোটারদের কাছে দলের পরিচয় বহন করে। কিন্তু শাপলা জাতীয় ফুল হওয়ার কারণে এটি রাজনৈতিক প্রতীকে পরিণত হলে জাতীয় ঐক্যের প্রতীকটি বিভাজনের কারণে পরিণত হতে পারে।
এক নির্বাচন বিশ্লেষক ইনসাইড টিভিকে বলেন, “জাতীয় প্রতীক কোনো দলের একক পরিচয় হতে পারে না। সেটি জনগণের সবার। তাই নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত যৌক্তিক।”
ইসি তাদের নীতিগত অবস্থান স্পষ্ট করেছে— জাতীয় প্রতীকের স্থানে দলীয় প্রতীক নয়।
