ফেনীর মহিপালে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে হামলার ঘটনায় সাবেক চার সংসদ সদস্যসহ মোট ২৬৪ জনের বিরুদ্ধে আদালতে হত্যাচেষ্টা মামলার আবেদন হয়েছে। দীর্ঘ এক বছরেরও বেশি সময় পর এই মামলাটি দায়ের করা হলো।
গত ১৭ আগস্ট এক ব্যবসায়ী মো. জামাল উদ্দিন গাজী ফেনীর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট অপরাজিতা দাশের আদালতে মামলার আবেদন করেন। আদালত আবেদনটি গ্রহণ করে সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপারকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন।
মামলায় ফেনী-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দিন হাজারীকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। এছাড়া সাবেক এমপি লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী, আলাউদ্দিন আহমেদ চৌধুরী নাসিম, শিরীন আখতারসহ আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
আবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৩ সালের ৪ আগস্ট মহিপালে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে অংশ নেন বাদী জামাল উদ্দিন। ওই সময় আসামিরা আগ্নেয়াস্ত্র হাতে মিছিল নিয়ে সেখানে যায় এবং নির্বিচারে গুলি চালায়। এতে বাদী একাধিক গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন। পরে লাঠি, রড ও রাইফেলের বাট দিয়ে তাকে পিটিয়ে আহত করা হয় এবং মৃত ভেবে ফেলে রাখা হয়।
স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে ফেনী জেনারেল হাসপাতালে এবং পরে ঢাকার একাধিক হাসপাতালে ভর্তি করে। চিকিৎসকদের অস্ত্রোপচারে তার শরীর থেকে বুলেট অপসারণ করা হয়। বাদীর দাবি, শরীরে নয়টি গুলি লাগার কারণে দীর্ঘদিন চিকিৎসাধীন ছিলেন, এখনো একটি অস্ত্রোপচার বাকি রয়েছে। এজন্য মামলা করতে দেরি হয়েছে।
তিনি অভিযোগ করেন, তিন মাস আগে ফেনী মডেল থানায় লিখিত এজাহার দাখিল করলেও পুলিশ মামলা নেয়নি। থানার ওসি জানিয়েছিলেন, ‘ওপর থেকে নির্দেশ আছে, ৪ আগস্টের কোনো মামলা নেয়া যাবে না।’ অবশেষে আদালতের শরণাপন্ন হতে বাধ্য হন তিনি।
এ বিষয়ে ফেনী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সামসুজ্জামান বলেন, মহিপালের ঘটনায় থানায় ইতিমধ্যে ২২টি মামলা হয়েছে। বাদী যে অভিযোগ করেছেন—থানা মামলা নেয়নি—এটি ভিত্তিহীন।
এই ঘটনায় নতুন করে মামলা হওয়ায় রাজনৈতিক মহলসহ সাধারণ মানুষের মধ্যে আলোচনার ঝড় উঠেছে। এখন দেখার বিষয়, তদন্তে কী উঠে আসে এবং আদালতের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হয়।
