হাদিকে হত্যার নির্দেশদাতার নাম জানালেন ডিএমপির ডিবি প্রধান

ফরহাদ হোসেন, ঢাকা প্রতিনিধি

2 Min Read

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদিকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ডিএমপির গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) প্রধান মো. শফিকুল ইসলাম।

মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) মিন্টো রোডের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, পল্লবী থানা যুবলীগের সভাপতি ও উত্তর সিটির সাবেক কাউন্সিলর তাজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পীর নির্দেশেই হাদি হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়।

ডিবি প্রধান বলেন, মামলার প্রধান আসামি ও গুলিবর্ষণকারী হিসেবে শনাক্ত ফয়সাল করিম ছাত্রলীগের সাবেক নেতা। তার সহযোগী হিসেবে আলমগীর—আদাবর থানা যুবলীগের কর্মীর সংশ্লিষ্টতার তথ্যও পাওয়া গেছে। তবে এখন পর্যন্ত অভিযুক্ত তিনজনকেই গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি; তারা ভারতে পালিয়ে গেছেন। এ ছাড়া গুলিবর্ষণকারী ফয়সাল করিমের ভগ্নিপতি ও ফিলিপ নামের একজনও পলাতক রয়েছেন।

হত্যার কারণ সম্পর্কে তিনি জানান, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী-বিরোধী অবস্থান নেওয়ায় হাদিকে টার্গেট করা হয়।

ডিবি জানায়, হাদি হত্যা মামলায় ফয়সাল করিম মাসুদসহ মোট ১৭ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে। এর মধ্যে ১২ জন গ্রেফতার হলেও ৫ জন এখনও পলাতক।

অভিযুক্ত ফয়সালের ভিডিওবার্তা প্রসঙ্গে শফিকুল ইসলাম বলেন, কেউ ভিডিওবার্তা দিতেই পারে, তবে তদন্তে তার জড়িত থাকার যথেষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেছে।

উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের তফসিল ঘোষণার পরদিন ১২ ডিসেম্বর ঢাকার পুরানা পল্টনের বক্স-কালভার্ট রোডে চলন্ত মোটরসাইকেল থেকে রিকশায় থাকা হাদির মাথায় গুলি করা হয়। গুরুতর অবস্থায় প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

পরবর্তীতে অবস্থার অবনতি হলে ১৫ ডিসেম্বর এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে তাকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। তিন দিন পর, ১৮ ডিসেম্বর তিনি মৃত্যুবরণ করেন। এ ঘটনায় ১৪ ডিসেম্বর পল্টন থানায় হত্যাচেষ্টার মামলা করা হলেও হাদির মৃত্যুর পর মামলাটি হত্যা মামলায় রূপ নেয়।

Share This Article
Leave a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *