খুলনায় জাতীয় নাগরিক পার্টির সহযোগী সংগঠন শ্রমিক শক্তির বিভাগীয় আহ্বায়ক মোতালেব শিকদারকে প্রকাশ্যে নয়, একটি ভাড়া বাসার ভেতরেই গুলি করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ ও ঘটনাস্থলের আলামত বিশ্লেষণ করে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।
সোমবার (২২ ডিসেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে খুলনা নগরীর সোনাডাঙ্গা এলাকার আল আকসা মসজিদ গলির একটি ভাড়া বাসায় এই গুলির ঘটনা ঘটে। পুলিশ বলছে, ওই বাসায় মাদক সেবনকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট অন্তঃকোন্দলের জেরেই মোতালেব শিকদার গুলিবিদ্ধ হন।
ঘটনার পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, গুলিবিদ্ধ অবস্থায় কান চেপে গলিপথ দিয়ে বেরিয়ে আসছেন মোতালেব। পুলিশ ও স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, তন্বী নামের এক নারী মাসখানেক আগে ওই বাসাটি ভাড়া নেন। নিজেকে গৃহবধূ পরিচয় দিলেও সেখানে নিয়মিত কয়েকজন পুরুষের যাতায়াত ছিল। বিভিন্ন সময় মোতালেবও ওই বাসায় যেতেন।
পুলিশ জানায়, রোববার রাতে মোতালেব কয়েকজন সহযোগীসহ ওই বাসায় প্রবেশ করেন। পরদিন সকাল সাড়ে ১১টার দিকে নিজেদের মধ্যে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে তাকে গুলি করা হয়। ঘটনাস্থল থেকে রক্তের দাগ, গুলির খোসা, ইয়াবা সেবনের সরঞ্জাম এবং বিদেশি মদের বোতল উদ্ধার করা হয়েছে।
খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, ঘটনাস্থলের চিত্র এবং প্রাপ্ত বিবরণে বড় ধরনের অসামঞ্জস্য পাওয়া গেছে। পরে বিস্তারিত অনুসন্ধানে নিশ্চিত হওয়া যায়, বাইরের কোনো হামলা নয়—বাসার ভেতরে থাকা ব্যক্তিদের মধ্যকার দ্বন্দ্ব থেকেই এই গুলির ঘটনা ঘটে।
গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর মোতালেব শিকদারকে দ্রুত খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে, তার অবস্থা বর্তমানে আশঙ্কামুক্ত।
উল্লেখ্য, ঘটনার পর প্রথমে আহত মোতালেব ও তার পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছিল, একটি চায়ের দোকান থেকে তাকে জোরপূর্বক একটি গলিতে নিয়ে গিয়ে হেলমেট পরিহিত কয়েকজন দুর্বৃত্ত গুলি করে পালিয়ে যায়। তবে পুলিশের তদন্তে সেই দাবির সঙ্গে বাস্তব ঘটনার মিল পাওয়া যায়নি।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
