বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে প্রস্তাবিত পিআর (Proportional Representation) পদ্ধতি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্ক দেখা দিয়েছে। বিএনপির শীর্ষ নেতাদের মতে, এই পদ্ধতি কার্যকর হলে জনগণের ভোটাধিকার আরও সীমিত হয়ে পড়বে এবং রাজনৈতিক প্রভাবশালী মহলের মধ্যে নতুন ধরণের বাণিজ্য শুরু হবে।
বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন দাবি করেন, দেশের বেশিরভাগ মানুষই পিআর পদ্ধতি সম্পর্কে জানে না, এমনকি অনেক রাজনৈতিক নেতা পর্যন্ত বিষয়টি বোঝেন না। তার ভাষায়,
“এখন হয় মনোনয়ন বাণিজ্য, আর পিআর চালু হলে হবে এমপি বাণিজ্য। এতে আরও অনিয়ম বাড়বে, তৈরি হবে ঝুলন্ত পার্লামেন্ট।”
তিনি সতর্ক করে বলেন, পিআর ব্যবস্থায় জনগণ ভোট দিতে আগ্রহ হারাবে, কারণ দলীয় প্রতীক ও জনপ্রিয় নেতার চেয়ে প্রভাবশালীদের তালিকাভুক্তি হয়ে উঠবে মূল ফ্যাক্টর। এতে দীর্ঘদিন জনগণের পাশে থাকা, মাঠে থেকে কাজ করা নেতারা পিছিয়ে পড়বেন।
খোকনের অভিযোগ, এ ধরনের ভোটব্যবস্থা স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদকে শক্তিশালী করবে। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন, নির্বাচন নিয়ে অনৈক্য তৈরি হলে গণতন্ত্রের নামে ফ্যাসিস্টদের পুনঃপ্রবেশের সুযোগ তৈরি হবে। তার মতে, যেসব শক্তি অতীতে রাজনৈতিকভাবে পরাজিত হয়েছে, পিআর পদ্ধতির মাধ্যমে তাদের ফেরানোর ষড়যন্ত্র চলছে।
জেলা বিএনপির আয়োজিত প্রস্তুতিসভায় সভাপতির বক্তব্য রাখতে গিয়ে খোকন আরও বলেন, “যারা প্রেতাত্মাদের মতো মৃত রাজনীতিকে পুনর্জীবিত করতে চাইছে, জনগণ তাদের ক্ষমা করবে না।”
এ সময় জেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি সরদার শাখাওয়াত হোসেন বকুল, সহসভাপতি তোফাজ্জল হোসেন মাস্টার, এম. এ জলিলসহ শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
সমালোচকরা মনে করছেন, পিআর পদ্ধতি চালুর মাধ্যমে দেশের নির্বাচনী ব্যবস্থায় একটি মৌলিক পরিবর্তন আসতে পারে। তবে মাঠ পর্যায়ে এই নিয়ে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা ও সন্দেহ বাড়ছে।
