চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ উপজেলার মগধরা ইউনিয়নে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচনী প্রচারণায় বাধা, ব্যানার ছেঁড়া ও নেতাকর্মীদের মারধরের অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (২৪ জানুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে মগধরা ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের আমেনা হক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় মাদরাসা শিক্ষক মো. মাঈন উদ্দীন বাদী হয়ে তিনজন ব্যক্তির নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত আরও ১০–১২ জনকে আসামি করে সন্দ্বীপ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

থানায় দায়ের করা অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-৩ আসনে জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী আলাউদ্দিন শিকদারের পক্ষে এবং গণভোটের প্রচারণায় অংশ নিচ্ছিলেন স্থানীয় জামায়াতের নেতাকর্মীরা। অভিযোগ অনুযায়ী, এ সময় স্থানীয় বাসিন্দা ইরান উদ্দিন (৩৮), মো. হালিম (৩৫) ও মো. নকু মিয়া (৪৫)-এর নেতৃত্বে একদল লোক দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাদের গতিরোধ করে।
ভুক্তভোগীদের দাবি, অভিযুক্তরা গণভোটের ব্যানার ছিঁড়ে ফেলে এবং জামায়াত কর্মীদের ‘রাজাকার’ আখ্যা দিয়ে গালিগালাজ করে। এতে প্রতিবাদ জানালে ৩ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের সভাপতি মাওলানা মো. আব্দুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক মহিউদ্দিন এবং ২ নম্বর ওয়ার্ডের মাওলানা আবুল হোসাইনের ওপর শারীরিক হামলা চালানো হয়। অভিযোগে আরও বলা হয়, হামলাকারীরা তাদের একটি স্থানে অবরুদ্ধ করে রাখে এবং ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এলাকা ছাড়ার হুমকি দেয়।
জামায়াত নেতাদের অভিযোগ, হামলাকারীরা স্থানীয় বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এ হামলা চালানো হয়েছে। তবে এ বিষয়ে স্থানীয় বিএনপি নেতৃত্বের কোনো বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
ঘটনার পর উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশের সহায়তায় অবরুদ্ধ নেতাকর্মীদের উদ্ধার করা হয়। সন্দ্বীপ থানা পুলিশ জানিয়েছে, লিখিত অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঘটনার পর এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। ভুক্তভোগীরা নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি অনতিবিলম্বে ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন।
