এ বছরের শুরুর দিকে যুক্তরাষ্ট্র চীনের বিরুদ্ধে বাণিজ্যযুদ্ধ তীব্র করলে বেইজিং ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের উদ্যোগ নেয়। সেই সময়ে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুকে একটি ব্যক্তিগত চিঠি পাঠান। যদিও বার্তাটি মূলত প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উদ্দেশেই দেওয়া হয়েছিল।
ভারতীয় কূটনৈতিক সূত্র জানায়, শি জিনপিংয়ের এই চিঠি ছিল চীনের সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্গঠনে ভারতের আগ্রহ যাচাইয়ের একটি কৌশল। চিঠিতে তিনি যুক্তরাষ্ট্র-ভারত সম্ভাব্য চুক্তি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন, যা বেইজিংয়ের স্বার্থের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়। এছাড়া একজন প্রাদেশিক কর্মকর্তার নামও উল্লেখ করা হয়, যিনি এই উদ্যোগ তদারকি করবেন।
সূত্র মতে, জুন পর্যন্ত ভারত কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেয়নি। তবে আগস্ট থেকে পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করে। যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক আরোপে অর্থনৈতিক চাপে পড়ে সীমান্ত বিরোধ মেটাতে উভয় দেশ সমঝোতায় আসে। এরই মধ্যে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি চীন সফরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
সাম্প্রতিক আলোচনায় দুই দেশ দীর্ঘদিনের সীমান্ত বিরোধ নিরসনে উদ্যোগী হয়েছে। পাশাপাশি নতুন করে সরাসরি যাত্রীবাহী ফ্লাইট চালু, ইউরিয়া রপ্তানিতে বিধিনিষেধ শিথিল এবং চীনা নাগরিকদের জন্য ভারতের পর্যটক ভিসা পুনরায় চালু করার মতো পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
আগামী ৩১ আগস্ট থেকে ১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চীনের তিয়ানজিনে অনুষ্ঠিতব্য সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশনের সম্মেলনে মোদির অংশগ্রহণ নিশ্চিত হয়েছে। এখানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানরা উপস্থিত থাকবেন। সম্মেলনের ফাঁকে মোদি ও শি জিনপিংয়ের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকও হওয়ার কথা রয়েছে।
২০২০ সালের সীমান্ত সংঘাতের পর থেকে উত্তেজনা প্রশমনে যেসব পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছিল, এই সফরকে সেগুলোর ধারাবাহিক প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
