সিলেটের স্কলার্সহোম স্কুল অ্যান্ড কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী আজমান আহমেদের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে কয়েকদিন ধরে চলা শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে অবশেষে তাদের দাবি মেনে নিয়েছে কলেজ কর্তৃপক্ষ।
সোমবার (২২শে সেপ্টেম্বর) দুপুরে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে উপাধ্যক্ষ আশরাফ হোসেন চৌধুরীর পদত্যাগসহ শিক্ষার্থীদের পাঁচ দফা দাবি এবং ছয়টি সংস্কার প্রস্তাব গ্রহণের ঘোষণা দেওয়া হয়। বিষয়টি লিখিত আকারে শিক্ষার্থীদের আশ্বাসও প্রদান করা হয়েছে।
স্কলার্সহোম শাহি ঈদগাহ শাখার অধ্যক্ষ লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) মুনীর আহমেদ কাদেরী বলেন, শিক্ষার্থীদের দাবি ও সংস্কারের বিষয়গুলো মেনে নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আজমান আহমেদের মৃত্যুর ঘটনায় একটি তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়েছে। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানান, উপাধ্যক্ষ আশরাফ হোসেন চৌধুরীর পদত্যাগ ইতোমধ্যে কার্যকর হয়েছে এবং দাবি অনুযায়ী শ্রেণিশিক্ষক শামীম হোসেন ও জ্যেষ্ঠ শিক্ষক তাইবাকেও অপসারণ করা হয়েছে।
এ ছাড়া শিক্ষার্থীদের হেনস্তা না করা, মানসিকভাবে বিপর্যস্তদের পরীক্ষায় অংশগ্রহণে সুযোগ দেওয়া এবং আজমানের মৃত্যুকে ঘিরে বিতর্কিত নোটিশ বোর্ডের বিবৃতি সরিয়ে ফেলা হয়েছে।
একই সঙ্গে সংস্কারের অংশ হিসেবে অভিভাবকদের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ আচরণ নিশ্চিত করা, শিক্ষার্থীবান্ধব নীতি গ্রহণ, পরীক্ষার রুটিন তৈরিতে শিক্ষার্থীদের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া, ১৩ কার্যদিবসের পরিবর্তে ২৬ কার্যদিবসের রুটিন গ্রহণ, শিক্ষকদের ব্যক্তিগত আক্রোশ থেকে বিরত থাকা এবং ক্লাস ক্যাপ্টেন নির্বাচনের ব্যবস্থা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
গত ১৭ সেপ্টেম্বর বিকেলে আজমান আহমেদকে তাঁর সুবিদবাজার বনকলাপাড়ার নিজ বাসায় ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করে পুলিশ। ১৯ বছর বয়সী এইচএসসি পরীক্ষার্থী প্রাক্–নির্বাচনী পরীক্ষার দুটি বিষয়ে অংশ নিতে না পারায় ফলাফলে পাঁচ বিষয়ে অকৃতকার্য দেখানো হয়েছিল। এর পর থেকে তিনি মানসিক চাপে ছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তাঁর মৃত্যুর পর পরিবার বিমানবন্দর থানায় অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করে।
আজমানের মৃত্যুর পর ফেসবুকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করতে থাকেন সহপাঠী ও অভিভাবকরা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা অভিযোগ ছড়িয়ে পড়লে শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নামে। তাদের আন্দোলনের মুখে অবশেষে দাবি ও সংস্কার প্রস্তাব মেনে নিতে বাধ্য হলো স্কলার্সহোম কলেজ কর্তৃপক্ষ।
