বহুল প্রতীক্ষিত ‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫’ অবশেষে শুক্রবার (১৭ অক্টোবর) বিকেলে বর্ণাঢ্য আয়োজনে স্বাক্ষরিত হয়েছে। উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত এই ঐতিহাসিক অনুষ্ঠানে সরকারের উপদেষ্টারা, রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা ও সুশীল সমাজের সদস্যরা উপস্থিত থাকলেও অনুপস্থিত ছিলেন অন্তর্বর্তী সরকারের দুই গুরুত্বপূর্ণ ছাত্র উপদেষ্টা — আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া এবং মাহফুজ আলম।
আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বর্তমানে স্থানীয় সরকার ও যুব-ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। অন্যদিকে মাহফুজ আলম দায়িত্বে আছেন তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা হিসেবে। দুইজনই জুলাই আন্দোলনের অন্যতম ছাত্রনেতা ছিলেন এবং আন্দোলনের সূচনালগ্ন থেকেই মাঠে নেতৃত্ব দিয়েছেন।
এদিনের স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে অংশ নেয়নি জুলাই আন্দোলনের মূল সংগঠন থেকে গঠিত রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলটির পক্ষ থেকে আগেই জানানো হয়েছিল, তারা ‘জুলাই সনদ’-এ স্বাক্ষর করবে না। এনসিপির মতে, সনদটি এখনো আইনি ভিত্তি পায়নি—এ অবস্থায় এতে স্বাক্ষর কেবল আনুষ্ঠানিকতা, যা পরিণত হতে পারে আরেকটি “একপাক্ষিক দলিলে”।
তারা তিন দফা দাবি জানিয়েছিল জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের কাছে—
১. জুলাই সনদের সংশোধন,
২. সনদকে স্থায়ীভাবে সংবিধানে অন্তর্ভুক্তকরণ,
৩. এবং জুলাই যোদ্ধাদের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি।
সনদ স্বাক্ষরের আগে সংসদ ভবন এলাকায় আইনি ভিত্তির দাবিতে অবস্থান নেন জুলাই যোদ্ধারা। পুলিশ তাদের সরিয়ে দেয় বল প্রয়োগে, এতে বেশ কয়েকজন আহত হন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে শেষ মুহূর্তে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন সনদের পঞ্চম দফায় কিছু সংশোধন আনে। এরপরই মূল স্বাক্ষর অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়।
অনুষ্ঠান শুরু হয় বিকেল ৪টা ২৫ মিনিটে, কুচকাওয়াজের মাধ্যমে মঞ্চে আসেন প্রধান উপদেষ্টা ও জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সভাপতি ড. মুহাম্মদ ইউনূস। ৫টা ৫ মিনিটে প্রথমে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিনিধি ও কমিশন সদস্যরা স্বাক্ষর করেন, ৫টা ৭ মিনিটে স্বাক্ষর করেন প্রধান উপদেষ্টা নিজে।
মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা, কমিশনের সহ-সভাপতি ও সদস্যরা, রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা। তবে নজরকাড়া অনুপস্থিতি ছিল দুই ছাত্র উপদেষ্টার—যা অনুষ্ঠানজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল।
অনেকেই মনে করছেন, এই অনুপস্থিতি হয়তো জুলাই সনদের আইনি স্বীকৃতি নিয়ে ছাত্র উপদেষ্টাদের অভ্যন্তরীণ আপত্তি বা মতবিরোধের ইঙ্গিত বহন করছে। যদিও তাদের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো ব্যাখ্যা এখনো পাওয়া যায়নি।
