৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য কিছু পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। অন্তর্বর্তী সরকার এখন পর্যন্ত ভারতের সঙ্গে স্বাক্ষরিত একটি চুক্তি বাতিল করেছে, আর বহুল আলোচিত আদানি পাওয়ার চুক্তি পুনর্বিবেচনার আওতায় এনেছে।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন এ তথ্য জানান। তিনি বলেন,
আমরা এখন পর্যন্ত ভারতের সঙ্গে একটি চুক্তি বাতিল করেছি। আর আদানির সঙ্গে বিদ্যুৎ চুক্তির বিষয়ে সরকার পুনর্বিবেচনা করছে, কারণ এটি দেশের অর্থনৈতিক স্বার্থ ও বিদ্যুৎ খাতের স্থায়িত্বের সঙ্গে সম্পর্কিত।
অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই বিদেশনীতি ও অর্থনৈতিক চুক্তিগুলো নতুনভাবে মূল্যায়ন শুরু করেছে তারা। বিশেষ করে, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের যেসব চুক্তি পূর্ববর্তী সরকারের সময় বিতর্কের জন্ম দিয়েছিল—সেগুলো এখন সূক্ষ্মভাবে পর্যালোচনা করা হচ্ছে বলে সরকারি সূত্রে জানা গেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্ত অন্তর্বর্তী সরকারের “জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রতিফলন“। অনেকেই মনে করেন, ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের ভারসাম্য রক্ষা করেই সরকার পারস্পরিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে, তবে দেশীয় স্বার্থে ক্ষতিকর কোনো চুক্তি বহাল রাখবে না।
উল্লেখ্য, আদানি পাওয়ারের সঙ্গে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) চুক্তি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই সমালোচনা রয়েছে। বিশেষ করে বিদ্যুৎ ক্রয়মূল্য ও সরবরাহ শর্তাবলী নিয়ে অর্থনীতিবিদ ও জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের আপত্তি তোলা হয়েছিল।
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন বলেন,
আমরা চাই বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখে আমাদের জাতীয় স্বার্থ সুরক্ষিত রাখতে। সেই লক্ষ্যেই প্রতিটি চুক্তি ও সমঝোতা আমরা খতিয়ে দেখছি।
অন্তর্বর্তী সরকারের এই পদক্ষেপকে অনেকে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের নতুন বাস্তবতার সূচনা হিসেবে দেখছেন।
