দীর্ঘ প্রায় দেড় যুগের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে দেশের পথে ফিরছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আর কিছুক্ষণের মধ্যেই তিনি প্রিয় জন্মভূমির মাটি স্পর্শ করবেন। বাংলাদেশের আকাশে ফিরে আসার আবেগ তিনি নিজেই প্রকাশ করেছেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক লাইনের স্ট্যাটাসে—“দীর্ঘ ৬ হাজার ৩১৪ দিন পর বাংলাদেশের আকাশে।”
স্থানীয় সময় বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা ৬টা ৩৬ মিনিটে লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দর থেকে বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন তারেক রহমান। বাংলাদেশ সময় অনুযায়ী বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) রাত ১২টা ৩৬ মিনিটে যাত্রা শুরু করে ফ্লাইটটি। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, বিমানটি প্রথমে সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সকাল ৯টা ৫৫ মিনিটে অবতরণ করার কথা। সেখানে প্রায় এক ঘণ্টার গ্রাউন্ড টার্নঅ্যারাউন্ড শেষে সকাল ১০টা ৫৫ মিনিটে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়ে সকাল ১১টা ৪৫ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
বিমান সূত্র জানিয়েছে, তারেক রহমান বাংলাদেশ বিমানের বিজি-২০২ ফ্লাইটে বোয়িং ড্রিমলাইনার ৭৮৭-৯০০ উড়োজাহাজে আসছেন। রুটটি লন্ডন হিথ্রো–সিলেট–ঢাকা। ফ্লাইটে উচ্চপদস্থ যাত্রী থাকায় নিরাপত্তা ও পরিচালনায় বিশেষ সমন্বয় রাখা হয়েছে। তারেক রহমানের জন্য নির্দিষ্টভাবে A1 সিট বরাদ্দ করা হয়েছে।
একই ফ্লাইটে তারেক রহমানের সঙ্গে রয়েছেন তার স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান, কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমান, ব্যক্তিগত সচিব আব্দুর রহমান সানি, দলের প্রেস উইংয়ের সালেহ শিবলী, জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের কামাল উদ্দীন, সৈয়দ মইনউদ্দিন আহমেদ এবং তাবাসসুম ফারহানা।
তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তনকে ঘিরে রাজধানীর পূর্বাচলের ৩৬ জুলাই এক্সপ্রেসওয়ে (৩০০ ফিট) এলাকায় গণসংবর্ধনার আয়োজন করা হয়েছে। কুড়িল মোড়সংলগ্ন সড়কের উত্তর পাশে দক্ষিণমুখী করে বাঁশ ও কাঠ দিয়ে ৪৮ ফুট বাই ৩৬ ফুটের একটি মঞ্চ তৈরি করা হয়েছে। সেখানে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মীর উপস্থিতি প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
ঢাকায় পৌঁছানোর পর বিমানবন্দরের ভিআইপি লাউঞ্জে তারেক রহমানকে ফুল দিয়ে স্বাগত জানাবেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ দলের স্থায়ী কমিটির সদস্যরা। এরপর তিনি সংবর্ধনাস্থলে যাবেন এবং সেখানে অপেক্ষমাণ নেতাকর্মীদের উদ্দেশে কৃতজ্ঞতা জানিয়ে দেশবাসীর উদ্দেশে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেবেন। পরবর্তীতে তিনি এভারকেয়ার হাসপাতালে গিয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। সেখান থেকে কাকলী মোড় হয়ে গুলশান-২ নম্বরে নিজ বাসভবনে যাবেন।
২০০৭ সালের জানুয়ারিতে সেনা-সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতায় আসার পর দুর্নীতির মামলায় আটক হয়ে প্রায় ১৮ মাস কারাবন্দী ছিলেন তারেক রহমান। মুক্তি পাওয়ার পর ২০০৮ সালের ১১ সেপ্টেম্বর চিকিৎসার জন্য সপরিবারে লন্ডনে যান তিনি। ওই বছরের ডিসেম্বরের নির্বাচনের পর রাজনৈতিক বাস্তবতায় দেশে ফেরা সম্ভব হয়নি। একের পর এক মামলার কারণে দীর্ঘ সময় প্রবাসেই কাটাতে হয় তাকে।
দীর্ঘ সেই নির্বাসিত অধ্যায়ের অবসান ঘটিয়ে আজ দেশের মাটিতে ফিরছেন তারেক রহমান। এই প্রত্যাবর্তন শুধু একজন রাজনৈতিক নেতার ঘরে ফেরা নয়, বরং বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের নতুন সূচনাও বটে।
