দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে এক যুবককে অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগে সেনাবাহিনী ও পুলিশের যৌথ অভিযানে পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে। আটকদের মধ্যে পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের এক নেতাও রয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) ভোররাতে ফুলবাড়ী পৌরসভার পশ্চিম গৌরীপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে অপহৃত ব্যক্তিকে উদ্ধারসহ অভিযুক্তদের আটক করা হয়। পরে বিকেলে তাদের বিরুদ্ধে থানায় অপহরণ মামলা দায়ের করে আদালতে সোপর্দ করা হয়।
আটকরা হলেন—পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক মাজেদুল ইসলাম মিঠু (৩৬), মো. সাজু মিয়া (২৮), তুহিন রেজা (৩০), জুলফিকার আলী (৩০) ও মোছাদ্দেক হোসেন (৩৫)।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, বুধবার (৭ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় আশিদুল হক (৩৭) নামে এক যুবক কেনাকাটা শেষে বাড়ি ফেরার পথে তিনটি মোটরসাইকেলে আসা কয়েকজন ব্যক্তি তার পথরোধ করে। তারা নিজেদের ডিবি পুলিশের সদস্য পরিচয় দিয়ে তাকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায়। পরে একটি অজ্ঞাত বাড়িতে আটকে রেখে মারধর করা হয় এবং দুই লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়।
একপর্যায়ে আশিদুল হক ৫০ হাজার টাকা দিতে সম্মত হলে তার স্বজনদের মাধ্যমে টাকা আনতে বলা হয়। পরে ৩০ হাজার টাকা নেয়ার পর তাকে ছেড়ে দেওয়া হলেও আরও ৫০ হাজার টাকার দাবিতে তার খালাতো ভাই হাবিবুর রহমানকে আটক করে রাখে অপহরণকারীরা।
রাতের দিকে আশিদুল হক সেনাবাহিনীর একটি টহল দলের কাছে বিষয়টি জানালে সেনাবাহিনী ও পুলিশ যৌথভাবে অভিযান শুরু করে। রাতভর অভিযানের পর বৃহস্পতিবার ভোরে একটি বাড়ি থেকে অপহৃত হাবিবুরকে উদ্ধার করা হয় এবং অভিযুক্ত পাঁচজনকে আটক করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে দুটি মোটরসাইকেল ও নগদ সাড়ে পাঁচ হাজার টাকা জব্দ করা হয়।
এ বিষয়ে ফুলবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ মো. আব্দুল লাতিফ বলেন, ডিবি পুলিশ পরিচয়ে অপহরণ ও চাঁদাবাজির ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। গ্রেফতারদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
এদিকে ফুলবাড়ী পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আতিয়ার রহমান মিন্টু জানান, ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকলে দলীয় পদ-পদবী বিবেচনা করা হবে না। তদন্ত শেষে দোষ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
