একটি রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা বিকাশের মাধ্যমে অর্থ পাঠিয়ে ভোট কেনার চেষ্টা করছে—এমন অভিযোগ করেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় হবিগঞ্জে অনুষ্ঠিত বিএনপির এক নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে এ অভিযোগ করেন তারেক রহমান।
তিনি বলেন, একটি রাজনৈতিক দলের লোকজন বাড়ি বাড়ি গিয়ে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) নম্বর ও মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করছে, এমনকি বিকাশে টাকা পাঠাচ্ছে। তিনি বলেন-
যারা নির্বাচনের আগেই মানুষকে টাকা দিয়ে প্রভাবিত করতে চায়, তারা কখনোই সৎ শাসন কায়েম করতে পারে না।
তারেক রহমান দাবি করেন, এসব অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িতদের মধ্যে অনেকে ইতোমধ্যে ধরা পড়েছে। তিনি বলেন,
যারা এখনই অসৎ কাজ শুরু করে, তারা ক্ষমতায় গেলে কীভাবে সৎ মানুষের শাসন প্রতিষ্ঠা করবে?
জনসভায় তারেক রহমান সবাইকে সজাগ ও সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, নির্বাচনের পরিবেশ নষ্ট করার জন্য ষড়যন্ত্র চলছে। তিনি অভিযোগ করেন, প্রবাসীদের ভোটের জন্য চালু করা পোস্টাল ব্যালট ব্যবস্থাও একটি রাজনৈতিক দল দখলের চেষ্টা করছে।
তিনি বলেন,
আগে যেভাবে ভোট ডাকাতি হয়েছে, এবারও একই কৌশলে ভোট দখলের চেষ্টা চলছে। ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের অপচেষ্টা হচ্ছে।
ইতিহাসের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার সময় যারা দেশের স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছিল, তাদের নতুন করে দেখার কিছু নেই। তিনি বলেন-
একমাত্র জনগণের শাসনই পারে দেশকে সঠিক পথে পরিচালিত করতে।
ভোটারদের উদ্দেশে তারেক রহমান বলেন,
এই দেশের প্রকৃত মালিক জনগণ। ন্যায়পরায়ণতা ছাড়া দেশ পরিচালনা সম্ভব নয়।
ভোটের দিন ধর্মীয় অনুভূতির প্রসঙ্গ টেনে তিনি ভোটারদের কেন্দ্রে যাওয়ার প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানান।
জনসভায় তিনি বিএনপির নির্বাচনী অঙ্গীকারের কথাও তুলে ধরেন। বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় এলে—
- বেকারদের কর্মসংস্থানের উদ্যোগ নেওয়া হবে
- চা-বাগানের নারী শ্রমিক ও দরিদ্র পরিবারের জন্য ফ্যামিলি কার্ড চালু করা হবে
- ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের জন্য সম্মানির ব্যবস্থা করা হবে
- কৃষকদের জন্য কৃষক কার্ড, সহজ কৃষিঋণ ও ভর্তুকি নিশ্চিত করা হবে।
শেষে তিনি ভোটারদের ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।
