বিশ্বের বৃহত্তম শরণার্থী শিবির কক্সবাজারের উখিয়ার কুতুপালং ক্যাম্পে দিনব্যাপী সফর শেষে ইউরোপীয় পার্লামেন্টের প্রতিনিধি দল রোহিঙ্গা সংকটকে ইউরোপে পুনরায় আলোচনায় তোলার আশ্বাস দিয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৮ই সেপ্টেম্বর) সকালে প্রতিনিধি দলের ১৭ সদস্যের একটি টিম ক্যাম্পে পৌঁছে সুরক্ষা ব্যবস্থা, নিবন্ধন প্রক্রিয়া ও ক্যাম্প ব্যবস্থাপনা ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করেন। তারা খাদ্য বিতরণ কার্যক্রম, শিক্ষা উদ্যোগ, সাংস্কৃতিক স্মৃতি কেন্দ্র এবং রোহিঙ্গা স্বেচ্ছাসেবক ও কমিউনিটি নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের মাধ্যমে সরাসরি পরিস্থিতি সম্পর্কে ধারণা নেন।
বিকেলে কক্সবাজার শহরে শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারের সঙ্গে প্রতিনিধি দলের বৈঠকে আলোচনায় উঠে আসে রোহিঙ্গা সহায়তার বর্তমান অবস্থা, আন্তর্জাতিক তহবিল ঘাটতির প্রভাব এবং ভবিষ্যৎ সহায়তা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তা। আলোচনায় জানানো হয়, তহবিল সংকটের কারণে মাঠপর্যায়ে বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নে জটিলতা দেখা দিচ্ছে।
প্রতিনিধি দল স্বীকার করেছে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইউরোপীয় পার্লামেন্টে রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে আলোচনার পরিমাণ কমেছে। এর প্রধান কারণ ইউক্রেন যুদ্ধ, গাজা পরিস্থিতিসহ অন্যান্য বৈশ্বিক সংকট আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। তবে তারা প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, ইউরোপে ফিরে আবারও রোহিঙ্গা ইস্যুটি সামনে আনার চেষ্টা করবেন।
তাদের মতে, বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়া একটি মানবিক দৃষ্টান্ত হলেও দীর্ঘস্থায়ী সমাধান ছাড়া এ সংকট আরও জটিল হতে পারে। ভবিষ্যৎ সহযোগিতা নিশ্চিত করতে এবং বিশ্ববাসীকে আবারও এই মানবিক সংকটের গুরুত্ব স্মরণ করাতে সফরটিকে তারা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন।
এই প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে ছিলেন ইউরোপীয় পার্লামেন্টের মানবাধিকার উপকমিটির চেয়ারম্যান, যিনি সফরের উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলেন,
রোহিঙ্গা সংকটকে বৈশ্বিক মঞ্চে টিকিয়ে রাখতে আন্তর্জাতিক মহলের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা জরুরি।
এই সফর থেকে স্পষ্ট যে, আন্তর্জাতিক মহলের মনোযোগ ফেরানোই এখন বাংলাদেশের প্রধান কূটনৈতিক কৌশল। ইউরোপীয় দাতাদের টেকসই অবদান ছাড়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পের মানবিক চাহিদা মেটানো কঠিন হয়ে পড়ছে। প্রতিনিধি দল ইউরোপে ফিরে রোহিঙ্গা সংকটকে পুনরায় প্রাধান্য দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও, বাস্তবে কতটা কার্যকর উদ্যোগ আসবে তা এখনই বলা যাচ্ছে না।
