আসন্ন ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে কক্সবাজার জেলার চারটি আসনেই বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে নির্বাচনী মাঠ কার্যত এই দুই দলের দখলে চলে গেছে। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক মিত্রতা ভেঙে এখন তারা পরস্পরের প্রধান প্রতিপক্ষ হিসেবে ভোটের লড়াইয়ে নামতে যাচ্ছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জেলার চারটি আসনের মধ্যে অন্তত দুটি আসনে বিএনপি কিছুটা এগিয়ে থাকলেও বাকি দুটি আসনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের সম্ভাবনা প্রবল। দুই দলের সাংগঠনিক শক্তি, প্রার্থী নির্বাচন এবং স্থানীয় সমীকরণই শেষ পর্যন্ত ফল নির্ধারণে মুখ্য ভূমিকা রাখবে।
কক্সবাজার-১ (চকরিয়া–পেকুয়া):
এই আসনে বিএনপির হেভিওয়েট নেতা ও স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ শক্ত অবস্থানে রয়েছেন। স্থানীয় পর্যায়ে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা ও সাংগঠনিক নেটওয়ার্ক বিএনপিকে বাড়তি সুবিধা দিচ্ছে। তবে জামায়াত কৌশলী অবস্থান নিয়ে ধীরে ধীরে মাঠ গুছিয়ে বিএনপিকে কঠিন চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিচ্ছে।
কক্সবাজার-২ (মহেশখালী–কুতুবদিয়া):
এটি জামায়াতের ঐতিহ্যগত শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমান ঘোষণা দিয়েছেন—এখান থেকে প্রার্থী হামিদুর রহমান আজাদ বিজয়ী হলে তাকে মন্ত্রিসভায় নেওয়া হবে। এই ঘোষণায় নেতা–কর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে এবং বিএনপির জন্য আসনটি পুনরুদ্ধার করা কঠিন হয়ে উঠতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
কক্সবাজার-৩ (সদর–রামু–ঈদগাঁও):
এখানে বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য লুৎফর রহমান কাজল এখনো শক্তিশালী অবস্থানে আছেন। তৃণমূল পর্যায়ে তাঁর ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা উল্লেখযোগ্য। তবে জামায়াত সাংগঠনিক শক্তি বাড়িয়ে ভোটের মাঠ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে, ফলে এখানে দ্বিমুখী লড়াইয়ের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
কক্সবাজার-৪ (উখিয়া–টেকনাফ):
এই আসনে বিএনপির প্রার্থী শাহজাহান চৌধুরীর সঙ্গে জামায়াতের মনোনীত প্রার্থীর সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। রোহিঙ্গা ইস্যু, সীমান্ত অর্থনীতি ও স্থানীয় রাজনীতি এখানে ভোটের হিসাব জটিল করে তুলেছে।
সম্প্রতি কক্সবাজারে এক জনসভায় জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান বিএনপিকে লক্ষ্য করে কঠোর সমালোচনা করে বলেছেন, জনগণ এবার বিএনপিকে “লাল কার্ড” দেখাবে। তাঁর এ বক্তব্য দুই দলের সম্পর্কে নতুন উত্তেজনা তৈরি করেছে।
সার্বিক পরিস্থিতি বলছে, কক্সবাজারে বিএনপি ও জামায়াত আর নির্বাচনী মিত্র নয়; বরং ক্ষমতার প্রশ্নে তারা একে অপরের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী। আগামী নির্বাচনে এই জেলার ফলাফল জাতীয় রাজনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
