কিশোরগঞ্জে সাংবাদিকের উপর হামলা : এনসিপির কর্মী ভেবে ভুল

আবিদা সুলতানা, ডেস্ক রিপোর্ট

2 Min Read

কিশোরগঞ্জে শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন দৈনিক সময় কণ্ঠস্বর পত্রিকার জেলা প্রতিনিধি সাব্বির হোসেন (২৭)। রবিবার (৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে তিনি কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

অভিযোগে বলা হয়, সোমবার দুপুরে হাসপাতালের ভেতরে ছাত্র জনতার সংস্কার আন্দোলনের সংবাদ সংগ্রহের সময় অভিযুক্ত হাসিবুল হোসেন শান্ত (৩০) এবং তার কয়েকজন সহযোগী হঠাৎ করে সাব্বিরের উপর অতর্কিত হামলা চালান। প্রথমে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয় এবং দাবি তোলা হয় যে, আগে তাদের বক্তব্য নিতে হবে। সাংবাদিক সাব্বির শিক্ষার্থীদের সাক্ষাৎকার শেষে তাদের বক্তব্য নেবেন বলে জানালে হামলাকারীরা ক্ষিপ্ত হয়ে তার উপর কিল, ঘুষি ও লাথি মারতে থাকে। এতে তার নাক-মুখে জখম হয় এবং ঠোঁট ফেটে রক্তক্ষরণ হয়।

পরে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করেন। আহত অবস্থায় সাব্বির চিকিৎসা নেন এবং পরে থানায় অভিযোগ করেন।

ঘটনার পর অভিযুক্ত হাসিবুল হোসেন শান্ত বলেন, তিনি সাংবাদিককে চিনতে পারেননি। আন্দোলনের ভেতরে এনসিপির পুরনো কমিটির কিছু অবাঞ্ছিত সদস্য ঢুকে গেছে—সাব্বিরকে তাদের লোক ভেবে ভুল করেছিলেন। এ কারণে ঘটনাটি ঘটেছে বলে দাবি করেন তিনি।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন সদ্য বিলুপ্ত বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জেলা আহ্বায়ক ইকরাম হোসেন। তিনি সাংবাদিকের উপর হামলার ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেন এবং যেকোনো পরিস্থিতিতে সাংবাদিকদের পাশে থাকার আশ্বাস দেন।

আহত সাংবাদিক সাব্বির হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,

সকাল থেকে আমি শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের খবর সংগ্রহ করছিলাম। হঠাৎ হামলার শিকার হয়ে মারাত্মকভাবে আহত হয়েছি। সাংবাদিকদের নিরাপত্তা যদি নিশ্চিত না হয়, তবে স্বাধীনভাবে দায়িত্ব পালন করা কঠিন হয়ে পড়বে।

 

ঘটনার নিন্দা জানিয়েছে স্থানীয় সাংবাদিক সমাজ। তারা জানান, বারবার সাংবাদিকদের উপর হামলার ঘটনা ঘটছে, অথচ প্রশাসন কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না। হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন তারা।

এ বিষয়ে কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হাছান চৌধুরী জানান, বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে। সদর মডেল থানার ওসিকে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুনও অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এ হামলার ঘটনায় সাংবাদিক মহলে আবারও নিরাপত্তাহীনতার প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয় সাংবাদিকরা বলছেন, সংবাদকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে।

 

Share This Article
Leave a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *