গাজীপুর মহানগরের পূর্ব ধীরাশ্রম এলাকায় সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) গাজীপুর জেলা শাখার সহ-সভাপতি মো. কামরুজ্জামান মোল্লা (৬৫)-কে শ্বাসরোধে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। বুধবার (৫ ফেব্রুয়ারী) দিবাগত রাতে তার হাত-পা বাঁধা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
নিহত কামরুজ্জামান মোল্লা গাজীপুর মহানগরের ৫০ নম্বর ওয়ার্ডের গাজীপুরা এলাকার বাসিন্দা এবং ইদ্রিস আলীর ছেলে। তিনি সুজনের জেলা শাখার সহ-সভাপতির দায়িত্বে থাকার পাশাপাশি ঠিকাদারি ব্যবসার সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন।
পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বুধবার সকাল সাতটার দিকে তিনি একটি মামলা সংক্রান্ত কাজে গাজীপুর আদালতে যান। নির্ধারিত বিচারক উপস্থিত না থাকায় সেদিন আদালতের কার্যক্রম হয়নি। পরে আইনজীবীর চেম্বার থেকে বের হওয়ার পর আর বাসায় ফেরেননি তিনি।
রাত গভীর হলেও তার কোনো খোঁজ না পাওয়ায় স্বজনরা উদ্বিগ্ন হয়ে বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। এরই মধ্যে রাত আনুমানিক দুইটার দিকে পুলিশ পরিবারের সদস্যদের জানায়, পূর্ব ধীরাশ্রম এলাকার একটি সড়কের পাশ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয়দের তথ্যমতে, রাত ১১টার আগেই কোনো এক সময় দুর্বৃত্তরা তাকে হাত-পা বেঁধে শ্বাসরোধে হত্যা করে। পরে মরদেহটি সড়কের পাশে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। পথচারীরা মরদেহটি দেখতে পেয়ে স্থানীয়দের মাধ্যমে পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।
পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি শহীদ তাজউদ্দিন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
নিহতের ছোট ভাই কবিরুল ইসলাম বলেন, তাদের জানা মতে কারও সঙ্গে কামরুজ্জামান মোল্লার ব্যক্তিগত কোনো বিরোধ ছিল না। তবে ব্যবসায়িক লেনদেন নিয়ে কারও সঙ্গে শত্রুতা থাকতে পারে বলে ধারণা করছেন তারা।
এ ঘটনায় নিহতের ছেলে কৌশিক জামান বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।
গাজীপুর সদর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মিজানুর রহমান জানান, প্রাথমিকভাবে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনাটি তদন্ত করে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
