ডাকসু নির্বাচিত নারী শিক্ষার্থীদের ‘গৃহদাসী’ কটাক্ষ, ব্র্যাক গবেষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ

আবিদা সুলতানা, ডেস্ক রিপোর্ট

2 Min Read

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে বিজয়ী নারী প্রতিনিধিদের উদ্দেশে ‘গৃহদাসী’ মন্তব্য করে সমালোচনার মুখে পড়েছেন ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক মো. রাকিবুল মোবিন। মোবিন, যিনি ঢাবির অর্থনীতি বিভাগের ২০১৯-২০ সেশনের শিক্ষার্থী ছিলেন, বর্তমানে ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব গভর্ন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টে (বিআইজিডি) গবেষণা সহযোগী হিসেবে কর্মরত।

মোবিন সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট শেয়ার করে ডাকসুর নবনির্বাচিত নারী প্রতিনিধিদের ‘গৃহদাসী’ বলে কটাক্ষ করেন। বিষয়টি নজরে আসে শাখাওয়াত জাকারিয়ার কাছে, যিনি ডাকসুর মানবাধিকার ও আইন সম্পাদক। শাখাওয়াত অবিলম্বে বিষয়টি নিয়ে ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব গভর্ন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের নির্বাহী পরিচালক ইমরান মাতিনকে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন।

অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, মোবিনের মন্তব্য স্পষ্টভাবে নারী বিদ্বেষী এবং নারীর নেতৃত্ব ও ক্ষমতায়নকে হেয়প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যে করা হয়েছে। শাখাওয়াত জাকারিয়া অভিযোগে বলেন,

এ ধরনের আচরণ লিঙ্গ সমতা, গণতান্ত্রিক প্রতিনিধিত্ব এবং মানবিক মর্যাদার প্রতি যে শ্রদ্ধাবোধ ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয় ও বিআইজিডি প্রকাশ্যে ধারণ করে, তার সঙ্গে সম্পূর্ণ অসঙ্গতিপূর্ণ। একটি প্রাতিষ্ঠানিকভাবে খ্যাতনামা প্রতিষ্ঠানের গবেষক যখন প্রকাশ্যে নারীবিদ্বেষ ছড়িয়ে দেন, তা প্রতিষ্ঠানটির নৈতিক মানদণ্ড ও নারী অধিকার রক্ষায় প্রতিশ্রুতির ওপর প্রশ্ন তোলে।

অভিযোগপত্রে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, এটি নিছক ব্যক্তিগত মতামত নয়, বরং লিঙ্গ-ন্যায়বিচার এবং প্রাতিষ্ঠানিক বিশ্বাসযোগ্যতার বিষয়। শাখাওয়াত জাকারিয়া বলেন,

দৃঢ় ও স্বচ্ছ পদক্ষেপ ছাড়া অন্যকিছু করা হলে তা প্রতিষ্ঠানের নীরব সহযোগিতা হিসেবে গণ্য হবে এবং এ ধরনের ক্ষতিকর আচরণ স্বাভাবিক করার পথে সহায়তা করবে।

এ বিষয়ে শাখাওয়াত জাকারিয়া বলেন,

মোবিন ডাকসুর বিজয়ী নারী শিক্ষার্থীদের Home Slaves (গৃহদাসী) হিসেবে কটাক্ষ করেছেন। এজন্য আমরা ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব গভর্ন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টে প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানাই।

বিতর্কিত মন্তব্য ঘিরে এই ঘটনাটি শিক্ষাঙ্গনে নারী শিক্ষার্থীদের প্রতি সম্মান ও নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। বিষয়টি নিয়ে সামাজিকমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা চলছে, পাশাপাশি অভিযুক্ত গবেষকের বিরুদ্ধে তদন্ত ও জবাবদিহির দাবি উঠছে। ফলে এ ঘটনা ভবিষ্যতে গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষা পরিবেশে আচরণবিধি কঠোর করার এবং নারী শিক্ষার্থীদের প্রতি সম্মান নিশ্চিত করতে নতুন উদ্যোগ নেওয়ার পথ তৈরি করতে পারে।

 

Share This Article
Leave a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *