রাজধানীর টেকসই উন্নয়ন ও পরিবেশ সুরক্ষা নিয়ে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান অভিযোগ করেন, পলিথিন উৎপাদন বন্ধ করতে গিয়ে তার সহকর্মীরা হামলার শিকার হয়েছেন। তিনি জানান, চকবাজারের কয়েকটি কারখানায় অভিযান চালাতে গেলে সহকর্মীদের মাথা ফাটিয়ে দেওয়া হয়। অথচ এর এক বছর পরও বাজারে পলিথিন শপিংব্যাগের ব্যবহার বন্ধ হয়নি।
রিজওয়ানা হাসান বলেন, পলিথিনের ব্যবহার রোধে সরকার নানা পদক্ষেপ নিলেও দুটি বড় সমস্যার কারণে কাঁচাবাজার থেকে এ ব্যাগ উঠানো যায়নি—একটি উৎপাদন, আরেকটি ভোগ। তার মতে, শুধু সরকারি উদ্যোগ নয়, নাগরিকদেরও নিজেদের দায়িত্ব পালন করতে হবে। শিল্প উদ্যোক্তাদের সচেতনতা এবং দূষণকারী শিল্প-কারখানা বন্ধের ওপর জোর দেন তিনি।
সভায় বক্তারা ঢাকার ওপর জনসংখ্যার অস্বাভাবিক চাপ কমাতে বিকেন্দ্রীকরণের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তারা মনে করেন, আশপাশের শহরগুলোকে স্যাটেলাইট নগরীতে রূপান্তরিত করা ছাড়া ঢাকার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়।
রাজউকের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মো. রিয়াজুল ইসলাম বলেন, টেকসই রাজধানী গড়তে হলে গোটা দেশকেই টেকসই করতে হবে। কর্মসংস্থানের বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় ঢাকার ওপর চাপ দিন দিন বাড়ছে। তিনি উন্নয়ন কার্যক্রম একীভূত করার মাধ্যমে জবাবদিহি নিশ্চিত করার প্রস্তাব দেন।
বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের সভাপতি ড. আদিল মোহাম্মদ খান বলেন, রাজধানীকেন্দ্রিক উন্নয়নের ফলে প্রান্তিক এলাকাগুলো অবহেলিত হচ্ছে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা কাজে লাগাতে হলে কার্যকর পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন প্রয়োজন।
রিহ্যাবের সিনিয়র সহ-সভাপতি লিয়াকত আলী ভূঁইয়া বলেন, ঢাকার যানজট অসহনীয় পর্যায়ে পৌঁছেছে। রাজধানীর বাইরে নাগরিক সুবিধাসম্পন্ন নতুন শহর গড়ে তুলতে হবে এবং এতে বেসরকারি খাতকে সম্পৃক্ত করা উচিত।
বুয়েটের অধ্যাপক ড. মো. শামসুল হক সমালোচনা করে বলেন, গণপরিবহন উন্নয়নের বদলে মেগা প্রকল্পে জোর দেওয়ায় খরচ বেড়েছে কিন্তু জনগণের উপকার তেমন আসেনি। তার মতে, দেশের উন্নয়নের জন্য সুষম পরিকল্পনা অপরিহার্য।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জহিরুল ইসলাম জানান, রাজধানীর জলাবদ্ধতার অন্যতম কারণ পলিথিনের বেপরোয়া ব্যবহার। এর সমাধানে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার পাশাপাশি জনগণকে দায়িত্বশীল হতে হবে।
