যশোরে সম্পত্তির লোভে জামাইয়ের হাতে শ্বশুর খুন

যশোর প্রতিনিধি

2 Min Read

যশোরে বিএনপি নেতা আলমগীর হোসেন হত্যাকাণ্ডে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। হত্যার বিনিময়ে ১৫ লাখ টাকার চুক্তির কথা স্বীকার করেছেন গ্রেফতার আসামি শাহিন কাজী। তার জবানবন্দিতে উঠে এসেছে, নিহতের জামাই পরশের পরিকল্পনায় সাতজন মিলে এই কিলিং মিশনে অংশ নেন।

মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) বিকেলে যশোরের অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আছাদুল ইসলামের আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন শাহিন কাজী। শুনানি শেষে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

জবানবন্দিতে শাহিন জানান, শ্বশুরের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি দখলের লোভেই পরশ এই হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা করেন। ঘটনার দিন ৩ জানুয়ারি সন্ধ্যায় তারা সবাই একসঙ্গে বসে মাদক সেবন করেন। সেখানেই হত্যার জন্য ১৫ লাখ টাকার চুক্তি চূড়ান্ত হয়। এ সময় অগ্রিম এক লাখ টাকা ও অস্ত্র বুঝিয়ে দেওয়া হয়। ঘটনার রাতেই আরও চার লাখ টাকা দেওয়ার কথা থাকলেও পুলিশের তৎপরতায় তা নেওয়া সম্ভব হয়নি।

হত্যাকাণ্ডের বর্ণনা দিতে গিয়ে শাহিন বলেন, আলমগীর হোসেন অফিস থেকে বের হলে তারা তিনটি মোটরসাইকেলে তাকে অনুসরণ করেন। শংকরপুর বটতলা মোড় এলাকায় ফাঁকা স্থানে পৌঁছালে মোটরসাইকেলে থাকা শুটার মিশুক তাকে গুলি করে দ্রুত পালিয়ে যায়। গুলিবিদ্ধ হয়ে আলমগীর হোসেন মোটরসাইকেল থেকে পড়ে গেলে মৃত্যু নিশ্চিত হয়ে তারা সবাই ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের এসআই অলক কুমার দে জানান, সোমবার রাতে শহরের লোন অফিসপাড়া এলাকা থেকে শাহিন কাজীকে গ্রেফতার করা হয়। তিনি সেখানে একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। তার বাবার নাম কিসলু কাজী।

এর আগে এ ঘটনায় নিহতের জামাই পরশ, তার সহযোগী সাগর এবং শুটার মিশুককে গ্রেফতার করে পুলিশ। গত ৩ জানুয়ারি সন্ধ্যায় যশোরের শংকরপুর এলাকায় গুলি করে হত্যা করা হয় বিএনপি নেতা আলমগীর হোসেনকে। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী শামীমা বেগম কোতোয়ালি থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

সম্পত্তির লোভে নিজের শ্বশুরকে হত্যার এই নৃশংস ঘটনা স্থানীয় রাজনীতি ও সমাজে গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছে। তদন্ত এগোলে এই পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের পেছনের আরও অজানা তথ্য সামনে আসতে পারে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

Share This Article
Leave a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *