ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা আশুগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. হাবিবুর রহমান এবং উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মো. আলমগীর খাঁর বিরুদ্ধে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ করেছেন। মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) তিনি জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে এ সংক্রান্ত পৃথক তিনটি অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
অভিযোগপত্রে রুমিন ফারহানা উল্লেখ করেন, ১১ জানুয়ারি আশুগঞ্জের শরীফপুর গ্রামে প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়ার মিলাদ মাহফিলে উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক আলমগীর খাঁ তার নাম উল্লেখ করে অসভ্য ও অকথ্য ভাষায় বক্তব্য দেন। এ সময় তিনি বলেন, ‘রুমিন ফারহানা ও মমতাজের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই’—এমন মন্তব্যসহ আরও মানহানিকর কথা বলেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
একই অনুষ্ঠানে আশুগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. হাবিবুর রহমান রুমিন ফারহানার পোশাক নিয়ে কটূক্তি করেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। এছাড়া গত ৪ জানুয়ারি আরেকটি অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ‘রুমিন ফারহানা টিস্যু পেপার হয়ে গেছে, টিস্যু পেপার কোনো কাজে লাগে না।’
রুমিন ফারহানা অভিযোগে দাবি করেন, এসব বক্তব্যের কারণে তার সাধারণ কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। তিনি বলেন, এ ধরনের বক্তব্য স্পষ্টতই নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের শামিল এবং এতে সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
অভিযোগের পক্ষে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের একাধিক লিংক সংযুক্ত করেছেন, যেখানে অভিযুক্ত দুই নেতার বক্তব্যের ভিডিও রয়েছে। এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে সন্ধ্যায় মো. হাবিবুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, তিনি একটি মিটিংয়ে আছেন এবং পরে কথা বলবেন।
এদিকে অভিযোগের বিষয়ে জানতে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক শারমিন আক্তার জাহানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে ফোনে পাওয়া যায়নি।
নির্বাচনী প্রচারণার মাঠে ভাষা ও আচরণ নিয়ে তৈরি হওয়া এই বিতর্ক স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে নির্বাচন কমিশন কী সিদ্ধান্ত নেয়, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক অঙ্গনের।
