পার্বত্য চট্টগ্রামের উন্নয়ন ছাড়া বিকল্প নেই: সুপ্রদীপ চাকমা

মাহমুদুল আলম, চট্টগ্রাম প্রতিনিধি

2 Min Read

পার্বত্য চট্টগ্রামের টেকসই উন্নয়নকে জাতীয় অগ্রগতির অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে উল্লেখ করে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক উপদেষ্টা সুপ্রদীপ চাকমা বলেছেন,

পার্বত্য চট্টগ্রামের উন্নয়ন ছাড়া অন্য কোনো বিকল্প নেই।

তিনি বলেন, সরকার এ অঞ্চলে মানসম্মত শিক্ষা, জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন ও অর্থনৈতিক পুনরুজ্জীবন নিশ্চিত করতে অগ্রাধিকারভিত্তিতে কাজ করছে।

রাজধানীর মিরপুর শাক্যমুনি বৌদ্ধ বিহারে আয়োজিত কঠিন চীবর দান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সুপ্রদীপ চাকমা এসব কথা বলেন। তিনি জানান, এ বছর নভেম্বরের মধ্যেই পার্বত্য চট্টগ্রামের ১০০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ডিজিটালাইজড করা হবে, যা স্থানীয় শিক্ষাব্যবস্থায় এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।

উপদেষ্টা বলেন,

প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস নির্দেশনা দিয়েছেন নভেম্বরের মধ্যেই ১০০টি স্কুলে ডিজিটাল কার্যক্রম চালু করতে। ইতোমধ্যে অধিকাংশ স্থানে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম চালু হয়েছে, এবং আমরা নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সব কার্যক্রম সম্পন্ন করতে পারব বলে আশাবাদী।

তিনি আরও বলেন, পার্বত্য অঞ্চলের শিক্ষার্থীরা ইতোমধ্যে মেধার প্রমাণ দিয়েছে, সুযোগ পেলে তারা জাতীয় পর্যায়ে আরও বড় অবদান রাখতে পারবে।

সুপ্রদীপ চাকমা লাইভলিহুড ডেভেলপমেন্ট বা জীবিকা উন্নয়নকে দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন,

স্থানীয় জনগণের জীবনমান উন্নয়ন ছাড়া টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। তাই বাস্তবসম্মত ও জনগণভিত্তিক উন্নয়ন স্কিম গ্রহণ করতে হবে।

উপদেষ্টা জানান, লাইভলিহুড খাতে মোট উন্নয়ন বরাদ্দের ৪০ শতাংশ ব্যয় করা হবে এবং প্রকল্পের অর্থ যেন সঠিকভাবে ব্যবহার হয়, তা নিশ্চিত করতে কঠোর মনিটরিংয়ের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও জানান, পার্বত্য চট্টগ্রামের উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর জন্য ৫৩০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, যার সঠিক বণ্টন ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। এই অর্থ স্থানীয় অর্থনীতি সচল করতে, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের সহায়তা দিতে এবং কর্মসংস্থান বাড়াতে ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

অনুষ্ঠানে পার্বত্য চট্টগ্রামের ভান্তে প্রজ্ঞানন্দ মহাথের, দেশ-বিদেশ থেকে আগত ভিক্ষুগণ এবং বিভিন্ন সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। তারা সবাই পার্বত্য অঞ্চলের শান্তি ও উন্নয়নের পথে সরকারের উদ্যোগকে স্বাগত জানান।

সুপ্রদীপ চাকমা তার বক্তব্যে বলেন,

পার্বত্য চট্টগ্রাম আমাদের বৈচিত্র্যের প্রতীক, এই অঞ্চলের উন্নয়ন মানেই বাংলাদেশের সামগ্রিক উন্নয়ন।

এই বার্তাই যেন নতুন করে তুলে ধরে—টেকসই উন্নয়নের বাংলাদেশ গঠনে পার্বত্য চট্টগ্রাম আর প্রান্তিক নয়, বরং অংশীদার।

Share This Article
Leave a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *