ইরানজুড়ে চলমান বিক্ষোভকে ‘বিদেশি মদদপুষ্ট উসকানি’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে আরও কঠোর দমন-পীড়নের আহ্বান জানিয়েছেন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। বিক্ষোভ শুরুর সাত দিন পর এটাই ছিল এ নিয়ে তার প্রথম প্রকাশ্য বক্তব্য।
শনিবার (৩ জানুয়ারি) রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে খামেনি বলেন, কিছু উত্তেজিত ব্যক্তি ও ভাড়াটে শত্রু ইসলাম ও ইরানের বিরুদ্ধে স্লোগান দিচ্ছে। তার দাবি, এই কর্মকাণ্ড প্রকৃত প্রতিবাদের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়, বরং দেশকে অস্থিতিশীল করার একটি পরিকল্পনার অংশ।
খামেনি বলেন, প্রতিবাদ করা বৈধ অধিকার হলেও প্রতিবাদ আর দাঙ্গা এক বিষয় নয়। তিনি জানান, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদকারীদের সঙ্গে আলোচনা করা যেতে পারে, তবে দাঙ্গাবাজদের সঙ্গে কথা বলা অর্থহীন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে এ ক্ষেত্রে কঠোর অবস্থান নেওয়ার ইঙ্গিতও দেন তিনি।
অর্থনৈতিক চাপ, মূল্যস্ফীতি ও মুদ্রাবাজারের অস্থিরতার মধ্যে সাম্প্রতিক বিক্ষোভ আরও তীব্র হয়েছে বলে জানা গেছে। খামেনির বক্তব্য অতীতের বিভিন্ন আন্দোলনে তার নেওয়া অবস্থানের সঙ্গেই মিল রয়েছে। বিশেষ করে ২০২২ সালের ‘নারী, জীবন, স্বাধীনতা’ আন্দোলন এবং ২০১৯ সালের নভেম্বরের দেশব্যাপী বিক্ষোভের সময় একই ধরনের ভাষ্য দিয়েছিলেন তিনি।
মানবাধিকার সংগঠনগুলোর তথ্যমতে, চলমান অস্থিরতার মধ্যে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে এখন পর্যন্ত অন্তত আটজন বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন। এর আগে ২০২২ সালের বিক্ষোভে বিভিন্ন স্বাধীন সংস্থার হিসাব অনুযায়ী, নারী ও শিশুসহ শত শত মানুষের প্রাণহানি ঘটে।
সাম্প্রতিক বক্তব্যের মাধ্যমে ইরানে বিক্ষোভ দমনে রাষ্ট্রের কঠোর নীতি আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
