সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাবেক সহকারী একান্ত সচিব (এপিএস) গাজী হাফিজুর রহমান লিকুর বিরুদ্ধে ঘুষ এবং জ্ঞাত আয়ের বাইরে বিপুল সম্পদ অর্জনের অভিযোগে আদালত তার গোপালগঞ্জের সম্পদ জব্দের নির্দেশ দিয়েছেন।
সোমবার (৭ জুলাই) দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত এই আদেশ দেন। দুদকের অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে, লিকু এবং তার পরিবারের সদস্য ও ঘনিষ্ঠজনদের নামে বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে মোট ১৪৪ কোটি ৫৯ লাখ টাকার বেশি লেনদেনের তথ্য।
দুদক জানায়, চলতি বছরের ১৩ জানুয়ারি লিকু, তার স্ত্রী রহিমা আক্তার, ভগ্নিপতি শেখ মো. ইকরামসহ পরিচিতজনদের বিরুদ্ধে চারটি মামলা করা হয়। এর মধ্যে একটি মামলায় শুধুমাত্র লিকু আসামি। আরেক মামলায় তার স্ত্রী রহিমা আক্তার, তৃতীয় মামলায় লিকু ও তার ভগ্নিপতি ইকরাম এবং চতুর্থ মামলায় লিকুসহ ১০ জনের নাম রয়েছে।
তদন্তে উঠে এসেছে, লিকুর স্ত্রী রহিমা আক্তার ৯টি ব্যাংক হিসাবে প্রায় ১২ কোটি ৭৪ লাখ টাকা ঘুষ বা দুর্নীতির মাধ্যমে প্রাপ্ত অর্থ স্থানান্তর ও হস্তান্তরের কাজে যুক্ত ছিলেন। ভগ্নিপতি শেখ মো. ইকরাম তিনটি ব্যাংক হিসাবে ২১ কোটি টাকার বেশি লেনদেন করেছেন।
লিকুর ভাই গাজী মুস্তাফিজুর রহমান দিপু চারটি ব্যাংক হিসাবে প্রায় ১৯ কোটি ৪৬ লাখ টাকা, মামা তানভীর আহম্মেদ দুটি ব্যাংক হিসাবে প্রায় ১৯ কোটি ৮৮ লাখ টাকা, ব্যবসায়িক অংশীদার লিয়াকত হোসেন সবুজ দুটি ব্যাংক হিসাবে ৩ কোটি ৪৪ লাখ টাকা, মো. ফালু সেখ তিনটি ব্যাংক হিসাবে ৫৬ কোটি ৫২ লাখ টাকার বেশি লেনদেন করেছেন।
এছাড়া লিকুর বাসার তত্ত্বাবধায়ক হামিম শেখ প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ টাকা, ম্যানেজার মিন্টু রহমান প্রায় ৭২ লাখ টাকা এবং আরেক সহযোগী মো. আরাফাত হোসেন প্রায় ৩ কোটি ৫৩ লাখ টাকার বেশি লেনদেন করেছেন বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।
দুদকের অভিযোগ, শুধুমাত্র লিকুর নামেই ৫৫ লাখ টাকার জ্ঞাত আয়ের বাইরে সম্পদ রয়েছে। অন্যদিকে, তার স্ত্রী রহিমা আক্তারের বিরুদ্ধে প্রায় ২৩ কোটি টাকার সম্পদ ভোগ দখলের অভিযোগ, আর ভগ্নিপতি ইকরামের বিরুদ্ধে প্রায় ১৪ কোটি টাকার সম্পদের অভিযোগ আনা হয়েছে।
দুদক বলছে, এত বিপুল সম্পদের বৈধ উৎস সম্পর্কে লিকু বা তার স্বজনেরা কোনো সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে পারেননি।
এই মামলাগুলোর তদন্তকে ঘিরে প্রশাসন এবং রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
