ঢাকার সাভারে ১২ বছরের এক শিশুকে ছুরিকাঘাতে হত্যার ঘটনায় চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, মাদক সেবনের সময় ভাগাভাগি নিয়ে বিরোধের জেরেই এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে।
পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় গ্রেপ্তার হয়েছেন মো. রাব্বানী মোল্লা (১৮)। তাঁর বাড়ি নওগাঁর মান্দা উপজেলার রামবাড়িতে। পেশায় রাজমিস্ত্রির সহযোগী হিসেবে কাজ করতেন তিনি।
ঘটনার শুরু গত বৃহস্পতিবার বিকেলে। ওইদিন বিকেল চারটার দিকে আশুলিয়ার বাসার নিচে খেলতে বের হয় ছেলেটি। এরপর সে আর বাসায় ফেরেনি।
তার বাবার অভিযোগ, পরদিন শুক্রবার সকালে একটি অপরিচিত নম্বর থেকে তাঁকে কল করে প্রথমে ৩০ হাজার টাকা মুক্তিপণ চাওয়া হয়। এর পরপরই সেই দাবি বেড়ে দাঁড়ায় ৫০ লাখ টাকায়। মুক্তিপণ না দিলে ছেলেকে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়।
ঢাকা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাভার সার্কেল) মো. শাহীনুর কবীর বলেন, “মূলত গাঁজা সেবনের সময় ভাগাভাগি নিয়ে চাকু দিয়ে আঘাত করে শিশুটিকে হত্যা করা হয়।”
পুলিশ আরও জানায়, নিহতের ও রাব্বানীর মধ্যে বয়সের পার্থক্য থাকলেও দু’জনের মধ্যে বন্ধুত্ব ছিল। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরিটি উদ্ধার করা হয়েছে।
শনিবার রাতে আশুলিয়ার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে রাব্বানীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
নিহতের বাবা বলেন, “রাব্বানীর একার পক্ষে এ কাজ করা সম্ভব নয়। এ ঘটনায় যারা জড়িত, তাদের বিচার চাই।”
এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্কের পাশাপাশি ক্ষোভও বিরাজ করছে। পুলিশ বলছে, রাব্বানীর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যার পেছনে আর কেউ জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
