দীর্ঘ দুই বছরের ধ্বংসযজ্ঞ ও মানবিক বিপর্যয়ের মধ্যে গাজার পথে রওনা দিয়েছে তুরস্কের ১৭তম ‘গুডনেস শিপ’। মেরসিন বন্দর থেকে মঙ্গলবার স্থানীয় সময় সকালে ছেড়ে যাওয়া জাহাজটিতে রয়েছে প্রায় ৯০০ টন ত্রাণসামগ্রী, যার মধ্যে খাদ্য, টিনজাত পণ্য ও শিশুখাদ্যসহ নানা জরুরি সামগ্রী রয়েছে।
তুরস্কের দুর্যোগ ও জরুরি ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে এবং মিশরীয় রেড ক্রিসেন্টের সহযোগিতায় পাঠানো এই জাহাজটি মিশরের এল-আরিশ বন্দর হয়ে গাজা উপত্যকার কেরেম আবু সালেম সীমান্তে পৌঁছাবে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, জাহাজটি গাজাবাসীর হাতে পৌঁছানোর পর খাদ্য সংকট নিরসনে তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
জাহাজের আয়োজক সংস্থাগুলোর এক প্রতিনিধি বলেন,
আজ আমাদের জাহাজ গাজার উদ্দেশে রওনা দিয়েছে। এতে রয়েছে ৯০০ টন খাদ্য ও শিশুখাদ্য। ইনশাআল্লাহ, খুব শিগগিরই এটি মিশর হয়ে গাজায় পৌঁছাবে।
তথ্য অনুযায়ী, গত দুই বছরে তুরস্ক গাজার উদ্দেশে পাঠিয়েছে ১৬টি জাহাজ ও ১৪টি বিমানভর্তি মানবিক সহায়তা। এবার যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতির পরিকল্পনা কার্যকর হওয়ার পর ১৭তম ‘গুডনেস শিপ’ রওনা দিল, যা অনেকের কাছে শুধু ত্রাণ নয়, গাজার জন্য এক আশার প্রতীক হয়ে উঠেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, গাজায় খাদ্য ও চিকিৎসা সহায়তা পৌঁছে দেওয়া এখনো চ্যালেঞ্জের বিষয়। তবে তুরস্কের এই ধারাবাহিক উদ্যোগ যুদ্ধবিধ্বস্ত মানুষের মনে নতুন করে মানবতার বিশ্বাস জাগিয়ে তুলছে।
গাজার শিশুরা, যারা বহুদিন ধরে ক্ষুধা ও অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে, তাদের জন্য এই জাহাজটি হতে পারে এক টুকরো স্বস্তি—একটি ‘গুডনেস শিপ’, যা শুধু খাদ্য নয়, বহন করছে মানবতার বার্তা।
