অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ, রক্তপাত এবং রাষ্ট্রীয় বাহিনীগুলোর ওপর চাপ প্রয়োগ করে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত ক্ষমতা ধরে রাখার চেষ্টা করেছিলেন শেখ হাসিনা—এমনই বিস্ফোরক অভিযোগ উঠেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের এক তদন্ত প্রতিবেদনে।
রবিবার (২৫ মে) ট্রাইব্যুনালে এ প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। তিনি জানান, ২০২৫ সালের ৪ আগস্ট সকাল থেকে শেখ হাসিনা রাষ্ট্রের সব বাহিনীর প্রধান ও শীর্ষ কর্মকর্তাদের ওপর চাপ প্রয়োগ শুরু করেন। পরিস্থিতি যখন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়, তখনও তিনি তা মানতে নারাজ ছিলেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে পদত্যাগে রাজি করাতে শেষ পর্যন্ত তার পরিবারকেও হস্তক্ষেপ করতে হয়। ৫ আগস্ট, গণভবনে শেখ হাসিনার পা ধরে অনুরোধ করেন তার ছোট বোন শেখ রেহানা। সেই আবেগঘন মুহূর্তের পরেই শেখ হাসিনা পদত্যাগপত্র জমা দেন এবং সামরিক হেলিকপ্টারে দেশ ছাড়েন।
তদন্ত প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, দেশত্যাগের আগে সকাল সাড়ে ১০টা থেকে প্রায় এক ঘণ্টা সময় ধরে বিভিন্ন বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে চাপানউতোর চলে। শেষ সময়েও তিনি চেয়েছিলেন অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের মাধ্যমে ক্ষমতা ধরে রাখতে।
একইদিন ট্রাইব্যুনাল আদালত অবমাননার অভিযোগে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে দুটি জাতীয় দৈনিকে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দিয়েছে। আদালতের আদেশ অমান্য করে তিনি ও ছাত্রলীগ নেতা শাকিল আলম বুলবুল ২৫ মে হাজিরা না দেওয়ায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, ভারত থেকে মুঠোফোনে বক্তব্য দিয়ে বিচারকাজে হস্তক্ষেপ ও হুমকির অভিযোগ উঠেছে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে। এমনকি ট্রাইব্যুনালের তদন্তকারীরা তার একটি অডিও ক্লিপ পেয়েছেন, যেখানে তিনি বলেছেন, “২২৫টি মামলা হয়েছে, ২২৫ জনকে হত্যার লাইসেন্স পেয়েছি।”
এইসব তথ্য উঠে আসার পর রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রীর এ ধরনের কার্যক্রম ও মন্তব্যের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি উঠছে বিভিন্ন মহল থেকে।
