পশ্চিম ইরাকের আকাশে যুক্তরাষ্ট্রের একটি জ্বালানি সরবরাহকারী সামরিক বিমান বিধ্বস্ত হয়ে বিমানে থাকা ছয়জন ক্রু সদস্যই নিহত হয়েছেন। শুক্রবার (১৩ মার্চ) এক বিবৃতিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)।
এর আগে এ দুর্ঘটনায় চারজন নিহত হওয়ার কথা জানানো হলেও পরে নিশ্চিত করা হয়, বিমানে থাকা সব ক্রু সদস্যই প্রাণ হারিয়েছেন।
সেন্টকমের তথ্য অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) মিত্রদের নিয়ন্ত্রিত আকাশসীমায় উড়ার সময় বিমানটি দুর্ঘটনার শিকার হয়। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, এটি কোনো শত্রুপক্ষের হামলা বা বন্ধুসুলভ আগুনের কারণে ঘটেনি।
বিধ্বস্ত বিমানটি ছিল বোয়িং কেসি-১৩৫ স্ট্রাটোট্যাঙ্কার, যা আকাশে উড়ন্ত যুদ্ধবিমানগুলোকে জ্বালানি সরবরাহের জন্য ব্যবহৃত হয়। সাধারণত এই ধরনের বিমানে একজন পাইলট, একজন কো-পাইলট এবং একজন ‘বুম অপারেটর’সহ অন্তত তিনজন ক্রু সদস্য দায়িত্ব পালন করেন।
মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ পেন্টাগনে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে ঘটনাটিকে ‘মর্মান্তিক দুর্ঘটনা’ হিসেবে উল্লেখ করেন। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান ড্যান কেইন।
ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, নিহত সেনারা একটি যুদ্ধ মিশনে অংশ নেওয়ার সময় দুর্ঘটনার শিকার হন। তবে পরিবারের সদস্যদের আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো না হওয়া পর্যন্ত নিহতদের পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।
এই ঘটনার পর চলমান সংঘাতে নিহত মার্কিন সেনার সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৩ জনে, আর আহত হয়েছেন প্রায় ১৪০ জন।
এদিকে আজ শনিবার ইরান যুদ্ধ ১৫তম দিনে গড়িয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, গত রাতে ইরানের খার্গ দ্বীপে বড় ধরনের হামলা চালানো হয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলা শুরুর পর থেকে ইরানে এখন পর্যন্ত প্রায় ১ হাজার ৪৫০ জন নিহত হয়েছেন বলে বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে।
অন্যদিকে লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ইসরাইলি হামলায় ১২ জন চিকিৎসাকর্মী নিহত হয়েছেন। দেশটিতে চলমান বিমান হামলায় মোট নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৭৩ জনে, যার মধ্যে ১০৩ জন শিশু রয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ায় বেসামরিক হতাহতের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে এবং মানবিক সংকট আরও গভীর হচ্ছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এদিকে যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে নিজ প্রশাসনের ভেতরেই বাড়ছে চাপের মুখে পড়েছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস জানিয়েছে, তার ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টা ডেভিড সাক্স যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাত থেকে বেরিয়ে আসার উপায় খুঁজতে পরামর্শ দিয়েছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, এটি ট্রাম্প প্রশাসনের ভেতর থেকে যুদ্ধ নিয়ে অসন্তোষের প্রথম প্রকাশ্য ইঙ্গিত।
