দীর্ঘ সাড়ে তিন বছরের আইনি লড়াই শেষে অবশেষে চাকরি ফিরে পাচ্ছেন দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)-এর বহুল আলোচিত কর্মকর্তা মো. শরীফ উদ্দিন। দুর্নীতি উন্মোচনে সাহসী ভূমিকা রাখায় যিনি একসময় ছিলেন আলোচনার শীর্ষে, সেই কর্মকর্তার অপসারণ নিয়ে যে বিতর্কের ঝড় উঠেছিল, তারই অবসান ঘটলো হাইকোর্টের রায়ে।
বুধবার (৯ জুলাই) হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ শরীফ উদ্দিনকে চাকরি ফিরিয়ে দিতে এবং তার সব বকেয়া বেতন-ভাতা ও সুযোগ-সুবিধা পরিশোধ করতে দুদককে নির্দেশ দিয়েছেন।
শরীফ উদ্দিনের আইনজীবী ব্যারিস্টার সালাউদ্দিন দোলন জানান, কক্সবাজারে ভূমি অধিগ্রহণের নামে কয়েক লক্ষ কোটি টাকার নয়ছয়ের তদন্ত করে ২০২২ সালে ৬২০ পৃষ্ঠার প্রতিবেদন জমা দিয়েছিলেন শরীফ। ওই রিপোর্টের জেরেই তাকে চাকরিচ্যুত করা হয় এবং তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা দায়ের করা হয়।
হাইকোর্ট রায়ে বলেন, কক্সবাজারের ৭২টি প্রকল্পে সাড়ে ৩ লাখ কোটি টাকার ভূমি অধিগ্রহণ দুর্নীতি, রোহিঙ্গাদের এনআইডি ও পাসপোর্ট জালিয়াতি, কর্ণফুলী গ্যাসে অনিয়মসহ একাধিক দুর্নীতিবিরোধী অভিযানে শরীফ উদ্দিন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। এমন একজন কর্মকর্তাকে পুরস্কৃত না করে বরং চাকরিচ্যুত করা “দুঃখজনক”।
২০২৩ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) তৎকালীন চেয়ারম্যান মঈনউদ্দীন আবদুল্লাহ স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে শরীফ উদ্দিনকে চাকরি থেকে অপসারণ করা হয়। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, দুর্নীতি দমন কমিশন (কর্মচারী) চাকরি বিধিমালা, ২০০৮-এর বিধি ৫৪ (২)-এর ক্ষমতাবলে তাকে অপসারণ করা হয়েছে। সে সময় তাকে ৯০ দিনের বেতন এবং প্রযোজ্য সুযোগ-সুবিধা প্রদানের কথা বলা হয়েছিল।
চাকরি হারানোর পর এক বেসরকারি কোম্পানিতে কাজ শুরু করলেও শরীফ উদ্দিন আইনি লড়াই চালিয়ে যান। রায়ের পর প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেছেন, “আমি ন্যায়বিচার পেয়েছি। সবকিছু ভুলে গিয়ে দেশের জন্য আবার কাজ করতে চাই।”
দুদকের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে দুর্নীতি উন্মোচনকারী কর্মকর্তার অপসারণ এবং পরে আদালতের নির্দেশে তার পুনর্বহাল—এই ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের পদ্ধতি এবং স্বাধীনতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এখন দেখার বিষয়, শরীফ উদ্দিনের পুনর্বহাল কীভাবে বাস্তবায়ন করে দুদক এবং ভবিষ্যতে দুর্নীতিবিরোধী অভিযানগুলোতে তার ভূমিকা কতটা জোরালো হতে পারে।
