জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলায় মৃত দুই শিক্ষকের কাছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সহকারী প্রিজাইডিং অফিসারের দায়িত্ব পালনের চিঠি পাঠানোর ঘটনায় সমালোচনার মুখে পড়েছে উপজেলা নির্বাচন অফিস।
বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) নির্বাচনের আগে অনুষ্ঠিতব্য প্রশিক্ষণে অংশ নিতে মৃত দুই শিক্ষকের নামে চিঠি পাঠানো হয়।
মৃত শিক্ষকরা হলেন—দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার পোল্যাকান্দি উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আতাউর রহমান আকা এবং চর মাগুরীহাট দাখিল মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক মো. আবদুল করিম। মো. আবদুল করিম ২০২৪ সালের ২ আগস্ট অসুস্থতাজনিত কারণে মারা যান।
দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা নির্বাচন অফিস ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামালপুর-১ (দেওয়ানগঞ্জ-বকশীগঞ্জ) আসনের জন্য তাঁদের দুজনকেই সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব প্রদান করে। এ উপলক্ষে তাঁদের প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানিয়ে চিঠি পাঠানো হয়।
মৃত শিক্ষকদের নামে নির্বাচনী দায়িত্ব পালনের চিঠি পাঠানোর খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে তীব্র আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা স্বাক্ষরিত চিঠিতে গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে আগামী ২৫ জানুয়ারি দেওয়ানগঞ্জ সরকারি আব্দুল খালেক মেমোরিয়াল ডিগ্রি কলেজে অনুষ্ঠিত প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়ার জন্য নির্বাচিত সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তাদের একটি তালিকা প্রকাশ করা হয়। ওই তালিকায় মৃত আতাউর রহমান আকা ও মো. আবদুল করিমের নাম অন্তর্ভুক্ত ছিল।
চর মাগুরীহাট দাখিল মাদ্রাসার সুপার মো. শফিউল আলম বলেন, আবদুল করিম অনেক আগেই মারা গেছেন। মৃত্যুর আগে তিনি বিভিন্ন নির্বাচনে দায়িত্ব পালন করেছেন। ধারণা করা হচ্ছে, পুরোনো তালিকা থেকেই ভুলবশত তাঁর নাম আবার অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
একইভাবে পোল্যাকান্দি উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আতাউর রহমান আকার নামও তালিকায় এসেছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।
এ বিষয়ে দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, মৃত দুই শিক্ষকের নামে নির্বাচনী দায়িত্ব পালনের চিঠি যাওয়ার বিষয়টি অফিসের কারিগরি ত্রুটির কারণে হয়ে থাকতে পারে। দ্রুত সংশোধন করে তালিকা থেকে তাঁদের নাম বাদ দেওয়া হবে।
জামালপুরের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইউসুপ আলী বলেন, মৃত ব্যক্তিদের নামে কীভাবে চিঠি পাঠানো হয়েছে তা খতিয়ে দেখা হবে এবং প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনা হবে।
