জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানের সময় সহিংসতায় জড়িত থাকার অভিযোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ৪০৩ শিক্ষার্থীকে স্থায়ী বহিষ্কার করার প্রক্রিয়া শুরু করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। অভিযুক্ত শিক্ষার্থীদের কেন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হবে না— তা লিখিতভাবে ব্যাখ্যা দিতে সাত কার্যদিবস সময় দেওয়া হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ১৫ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত ক্যাম্পাসে সংঘটিত সহিংস ঘটনার পর প্রশাসন একটি তথ্যানুসন্ধান কমিটি গঠন করে। প্রাথমিক তদন্তে ১২৮ জন শিক্ষার্থীকে অভিযুক্ত করে রিপোর্ট পেশ করা হয়। সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্তে ওই শিক্ষার্থীদের সাময়িকভাবে বহিষ্কারও করা হয়েছিল।
পরে ঘটনাগুলোর গভীরতর অনুসন্ধানের জন্য গঠিত নতুন কমিটি আরও নাম যুক্ত করে মোট ৪০৩ জন শিক্ষার্থীকে অভিযুক্ত হিসেবে চিহ্নিত করে।
প্রক্টর কার্যালয় থেকে জারি করা সর্বশেষ নোটিশে বলা হয়েছে, অভিযুক্ত শিক্ষার্থীদের সাত কার্যদিবসের মধ্যে লিখিত জবাব জমা দিতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ব্যাখ্যা না দিলে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী একতরফা ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তদন্ত কমিটির একটি সূত্র জানায়, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ক্যাম্পাসে সহিংসতা, বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্পদ নষ্ট, এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমে বাধা দেওয়ার প্রমাণ পাওয়া গেছে। তবে ছাত্র সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে— তদন্তে রাজনৈতিক পক্ষপাত ও প্রক্রিয়াগত ত্রুটি রয়েছে, যা অনেক নিরপরাধ শিক্ষার্থীকে অভিযুক্ত করেছে।
ঢাবি প্রশাসনের এক সিনিয়র কর্মকর্তা বলেন,
বিশ্ববিদ্যালয় কোনোভাবেই সহিংসতা বা নৈরাজ্য মেনে নেবে না। তবে প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে ন্যায্য ব্যাখ্যার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে।
ক্যাম্পাসজুড়ে নোটিশ ঘিরে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ কেউ প্রশাসনের সিদ্ধান্তকে ‘শৃঙ্খলা পুনঃপ্রতিষ্ঠার পদক্ষেপ’ হিসেবে দেখছেন, অনেকের মতে এটি আন্দোলন দমনের কৌশল।
