চট্টগ্রামের উপকূলবর্তী দ্বীপ উপজেলা সন্দ্বীপে ৪ জুলাই সন্ধ্যায় উদ্ধার হওয়া ২৮৪টি মহিষকে ঘিরে এবার নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। নোয়াখালী ও ভোলা জেলার বিভিন্ন গ্রামে মহিষ চুরির একাধিক অভিযোগ উঠে এসেছে, যেগুলোর সঙ্গে সন্দ্বীপে হঠাৎ পাওয়া এই বিপুল সংখ্যক মহিষের যোগসূত্র থাকতে পারে বলে ধারণা করছেন স্থানীয়রা।
নোয়াখালীতে মহিষ চুরি:
নোয়াখালীর হাতিয়া, সুবর্ণচর এবং কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার বেশ কয়েকজন খামারি ও গৃহস্থ পরিবার সম্প্রতি স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদে মহিষ চুরির লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। কয়েকজন জানিয়েছেন, রাতে চরাঞ্চল থেকে হঠাৎ করে একাধিক মহিষ নিখোঁজ হয়ে যায়। কিছু এলাকায় স্থানীয়ভাবে খোঁজাখুঁজির পরও কোনো কূলকিনারা মেলেনি।
নোয়াখালীর খামারী ইদ্রিস উদ্দিন ইনসাইডকে বলেন,
“আমার চল্লিশটা মহিষ এক রাতেই উধাও। পায়ের ছাপ দেখে বুঝি নদীর দিকে নেয়া হয়েছে। কয়েকদিন পর শুনি সন্দ্বীপে শত শত মহিষ ধরা পড়েছে।”
ভোলায় একই ধরনের ঘটনা:
ভোলার চরফ্যাশন ও মনপুরা উপজেলার বাসিন্দারাও মহিষ চুরির ঘটনা নিয়ে উদ্বিগ্ন। স্থানীয়ভাবে জানা গেছে, গত ১৫ দিন ধরে চরাঞ্চলগুলোতে অন্তত ২০০ টির বেশি মহিষ হারিয়ে গেছে বলে দাবি করেছেন খামারিরা।
সন্দ্বীপের ঘটনার সঙ্গে যোগসূত্রের দাবি:
এই পরিস্থিতিতে সন্দ্বীপে পাওয়া ২৮৪টি মহিষ নিয়ে স্থানীয় প্রশাসনের তদন্ত চললেও ভোলা ও নোয়াখালীর ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো দাবি তুলেছে—এই মহিষগুলো সম্ভবত চুরি হয়ে সন্দ্বীপে এনে ফেলা হয়েছে।
তারা আরও বলছেন,
“মহিষগুলো হাটবাজারে বিক্রির উদ্দেশ্যে সন্দ্বীপে আনা হয়েছিল কিনা—তা প্রশাসন খতিয়ে দেখুক। আমাদের মহিষ শনাক্ত করতে দেওয়া হোক।”
প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া :
সন্দ্বীপ উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, মহিষগুলোর প্রকৃত মালিকানা যাচাইয়ের জন্য একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ আলী আজম ইনসাইডকে বলেন,
“আগামী তিনদিনের মধ্যে মালিকানার নথিপত্র সহ প্রকৃত মালিকগণকে আবেদন করতে বলা হয়েছে।”
উল্লেখ্য, গত ৯ জুলাই (বুধবার) রাত ৩ টায় সন্দ্বীপের উক্ত মহিষ ডাকাতির চেষ্টা করা হয়েছিলো। সূত্রে জানা যায়, মগধরা ৫ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা ইউনিয়ন যুবদলের এক শীর্ষ নেতার নেতৃত্বে ডাকাতির ঘটনাটি ঘটেছিলো।
