কেন্দ্রীয় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান, সাবেক স্বরাষ্ট্র ও কৃষিমন্ত্রী এবং ঢাকা সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র মেজর জেনারেল (অব.) মাহমুদুল হাসানের জানাজা সম্পন্ন হয়েছে। শেষ বিদায় জানাতে জানাজায় অংশ নেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার হাজারো মানুষ।
বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) বাদ জোহর টাঙ্গাইল শহরের বিন্দুবাসিনী স্কুল মাঠে তার জানাজা নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় বিএনপির নেতাকর্মীদের পাশাপাশি কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী, আওয়ামী লীগের বহিষ্কৃত নেতা ও সাবেক মন্ত্রী লতিফ সিদ্দিকীসহ রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনের বহু মানুষ অংশ নেন।
জানাজা শেষে সন্তোষে নিজ বাসভবনের পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
এর আগে বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে রাজধানীর গুলশানে নিজ বাসভবনে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে ইন্তেকাল করেন মাহমুদুল হাসান। মৃত্যুকালে তিনি এক ছেলে ও এক মেয়েসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
মেজর জেনারেল (অব.) মাহমুদুল হাসান ছিলেন একাধারে সাবেক মন্ত্রী, সংসদ সদস্য, শিক্ষানুরাগী এবং টাঙ্গাইলের উন্নয়নের অন্যতম রূপকার। টাঙ্গাইলের আধুনিকায়নে তার ভূমিকার জন্য তাকে ‘আধুনিক টাঙ্গাইলের স্থপতি’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। একই সঙ্গে ঢাকার নগর উন্নয়ন ও সৌন্দর্যবর্ধনে তার অবদানও বিভিন্ন সময়ে আলোচিত হয়েছে।
তিনি ১৯৩৬ সালের ১ মার্চ টাঙ্গাইল সদর উপজেলার মাকোরকোল গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার পূর্বপুরুষদের আদি নিবাস ছিল দেলদুয়ার উপজেলার মুশুরিয়া গ্রামে। তার বাবা আসিম উদ্দিন এলাকায় একজন সম্মানিত ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
শিক্ষাজীবনে তিনি ১৯৫৬ সালে বিজ্ঞানে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন এবং পরে ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রি লাভ করেন। ১৯৫৯ সালের ১৩ জুন তিনি পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে কমিশনপ্রাপ্ত হয়ে ইঞ্জিনিয়ারিং কোরে যোগ দেন। কর্মজীবনে তিনি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন এবং ১৯৬৫ সালের পাক-ভারত যুদ্ধে কাশ্মীরের আখনুর সেক্টরে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন।
