নতুন সংবিধান ও গণপরিষদ নির্বাচনের দাবিতে রাজনৈতিক অঙ্গনে বিতর্ক

মুসাইব ইব্রাহিম, ডেস্ক রিপোর্ট

2 Min Read

নতুন সংবিধান প্রণয়ন ও গণপরিষদ নির্বাচনের দাবিকে ঘিরে রাজনীতির মাঠে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলটির নেতাদের বক্তব্যে বারবার উঠে আসছে দাবি—স্বৈরতান্ত্রিক কাঠামো বদলাতে হলে গণপরিষদের মাধ্যমে নতুন সংবিধান রচনা জরুরি।

এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব বলেছেন, দেশের রাজনৈতিক সংকট নিরসনে নতুন সাংবিধানিক কাঠামো অপরিহার্য। তার মতে, আগামি নির্বাচন গণপরিষদ নির্বাচন হলে জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের হাতে নতুন সংবিধান প্রণয়নের সুযোগ তৈরি হবে।

তবে এই দাবি নিয়ে বিভক্ত রাজনৈতিক অঙ্গন। কেউ একে প্রয়োজনীয় মনে করলেও, অনেকে দেখছেন রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে। বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হকের মতে, জনগণ দীর্ঘদিন ধরে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের অপেক্ষায় আছে। এমন পরিস্থিতিতে গণপরিষদের প্রশ্নে ঐকমত্য গড়ে ওঠার সুযোগ নেই।

জামায়াতে ইসলামী মনে করে, নির্বাচন হোক সংসদে বা গণপরিষদে—নৈতিক মানদণ্ড না ঠিক হলে কোনো পরিবর্তনই কার্যকর হবে না। নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমানের ভাষায়, “গণ পরিষদই হোক আর জাতীয় সংসদ নির্বাচনই হোক, নৈতিক মানদণ্ড ঠিক না হলে যেই লাউ সেই কদুই হবে।”

অন্যদিকে বিএনপি মনে করছে, গণপরিষদের দাবি আসলে একটি রাজনৈতিক ফাঁদ। দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেছেন, বিদ্যমান ঐকমত্যের ভিত্তিতে জাতীয় সংসদ নির্বাচন হওয়াই যুক্তিযুক্ত। বাইরে থেকে গণপরিষদের মতো প্রস্তাব তোলা আসলে নির্বাচনী প্রক্রিয়া ব্যাহত করা এবং অগণতান্ত্রিক সরকারের মেয়াদ দীর্ঘায়িত করার চেষ্টা।

এমন এক সময়ে এই বিতর্ক সামনে এলো যখন অভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তিতে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের ঘোষণা দিয়েছেন। নির্বাচন কমিশনও শুরু করেছে সার্বিক প্রস্তুতি।

রাজনীতির অঙ্গনে তাই এখন মূল প্রশ্ন—গণতন্ত্রের কাঠামো নতুন করে সাজাতে দেশ কি গণপরিষদে যাবে, নাকি বহুল প্রতীক্ষিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পথেই অগ্রসর হবে?

Share This Article
Leave a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *